প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিজ্ঞাপন মানেই প্রলোভন। মানুষকে প্রলুব্ধ করতে বিজ্ঞাপনে অনেক সত্য মিথ্যা বহু বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়।
লম্বা হওয়া, মোটা হওয়া, চিকন হওয়া, ফর্সা হওয়ার এমন কতকগুলি দাবির মাধ্যমে নানান পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়; যার মধ্যে অনেকগুলোই প্রমাণিত সত্য নয়। সাধারণত বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেলিব্রেটিরা নানা পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তবে সেই নির্দিষ্ট পণ্যের গুণাবলী বিচার করার জন্য সেলিব্রেটি মডেলদেরও একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।
একটি বিজ্ঞাপনের কারণে এখন সমস্যায় পড়েছেন বলিউডের তিন সুপারস্টার শাহরুখ খান, অজয় দেবগন এবং টাইগার শ্রফ।
বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নিষিদ্ধ ‘পান মশালা’র প্রচারণার অভিযোগে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন এই তিন অভিনেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে। ২০২৪ সালে ‘বিমল’-এর পণ্য ‘এলাইচি’ প্রচারের উদ্দেশ্যে এই তিন অভিনেতা একটি বিজ্ঞাপনে একত্রে কাজ করেছিলেন।
বিমল মূলত পান মশলা প্রস্তুতকারী সংস্থা, যেহেতু মহারাষ্ট্রে পান মশালার উৎপাদন, মজুত, পরিবহন, বিতরণ এবং বিক্রয় নিষিদ্ধ।
মহারাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা প্রধান তুকারাম মুন্ডে ১১ আগস্ট এই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। সেখানে অভিনেতাদের অবিলম্বে এই প্রচারণায় অংশ নেওয়া বন্ধ করতে এবং তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে এই বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত সমস্ত প্রচারমূলক কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৯ পৃষ্ঠার ওই নোটিশে মুন্ডে বলেন, ‘উক্ত বিজ্ঞাপনটি পরীক্ষা করার পর প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে যে, এটি 'বিমল' ব্র্যান্ডের প্রচার করছে, যা মূলত পান মশলার সাথে সংযুক্ত।’ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজ্ঞাপনে 'বিমল এলাইচি' শব্দটি এমনভাবে ব্যবহৃত হয়েছে যেটা ‘বিমল পান মশলা’ ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
নোটিশে আরো বলা হয়, এটি ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং নিষিদ্ধ পণ্যটির ব্র্যান্ডের পরোক্ষ প্রচার করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘যদি এলাইচি বা অনুরূপ কোনো পণ্যের নামে 'বিমল' ব্র্যান্ডের ব্যবহার উদ্দেশ্যমূলকভাবে পান মশলা/তামাকজাত পণ্যের সাথে যুক্ত ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রাখা, জোরদার করা বা গ্রাহকদের আকর্ষণ বাড়ানো হয়; তবে এই ধরণের যোগাযোগ কেবল একটি স্বাধীন পণ্যের বিজ্ঞাপন হিসেবেও গণ্য নাও হতে পারে। এটি এক প্রকার নিষিদ্ধ পণ্যের পরোক্ষ ছদ্মবেশী প্রচারের শামিল হতে পারে।’
মুন্ডে, যিনি গুটখা এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন বা বিক্রয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন; অভিনেতাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর চুক্তিপত্র, ক্যাম্পেইনের বিবরণ, পেমেন্টের নথিপত্র এবং যথাযথ সতর্কতামূলক পদক্ষেপের প্রমাণপত্রের সম্পূর্ণ কপিও দাবি করেছেন।
উল্লিখিত ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অধীনে, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া, বিজ্ঞাপনদাতাদের সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য যে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
এর আগে ২০২২ সালে শাহরুখ খান এবং অজয় দেবগনের সাথে 'বিমল এলাইচি'র একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়ার পর তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা যখন এটি একটি তামাকজাত পণ্যের প্রচার হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত করেন, তখনই তিনি জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
অক্ষয় তখন এক্স (টুইটারে) লিখেছিলেন, ‘আমি আমার সমস্ত ভক্ত এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই। গত কয়েকদিন ধরে আপনাদের প্রতিক্রিয়া আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। যদিও আমি কখনো তামাকের প্রচার করিনি এবং করবও না, তবুও বিমল এলাইচির সাথে আমার যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আপনারা যে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তা আমি সম্মান করি। অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আমি এখান থেকে পিছিয়ে আসছি।’ কুমার আরো বলেন, ‘আমি এই বিজ্ঞাপনের পুরো পারিশ্রমিক একটি ভালো কাজের উদ্দেশ্যে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চুক্তির আইনি মেয়াদের বাধ্যবাধকতার কারণে ব্র্যান্ডটি হয়তো বিজ্ঞাপনটি প্রচার করা চালিয়ে যেতে পারে, তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে ভবিষ্যতে আমি আমার পছন্দের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকব। এর বিনিময়ে আমি চিরকাল আপনাদের ভালোবাসা এবং শুভকামনা কামনা করি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন