প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পর্তুগালের পার্লামেন্টে জনপরিসরে মুখ ঢেকে রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী বহুল আলোচিত ‘বোরকা বিল’ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেয়েছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী জোট, ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থনে বিলটি পাস হয়েছে। বর্তমানে এটি আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট যদি চান, তাহলে তিনি বিলে স্বাক্ষর করতে পারেন, ভেটো দিতে পারেন অথবা সাংবিধানিক আদালতে পাঠিয়ে এর সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন।
বিলটি প্রথম উত্থাপন করে কট্টর ডানপন্থী দল শেগা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সংসদে এর নীতিগত অনুমোদন মিললেও পরে এটি সংসদীয় কমিটিতে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল।
চলতি বছরের জুনে ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিএসডি) সংশোধিত খসড়া পেশ করে, যেখানে ধর্মীয় পোশাককে সরাসরি লক্ষ্য না করে জননিরাপত্তা ও পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তাকে মূল যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেই সংশোধিত সংস্করণই এবার সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
নতুন আইনে জনসমক্ষে এমন পোশাক বা আবরণ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা পুরোপুরি মুখ ঢেকে দেয় এবং পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে। এর আওতায় যে বোরকা ও নিকাব কার্যত নিষিদ্ধ হবে তা স্পষ্ট। তবে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত নিরাপত্তা, ধর্মীয় উপাসনালয়, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং বিমান ভ্রমণসহ কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মুখ ঢাকার অনুমতি থাকবে।
আইনে অবহেলাজনিত অপরাধে ২০০ থেকে ২,০০০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে ৪০০ থেকে ৪,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করলে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সংশোধিত খসড়ায় জরিমানার অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হওয়ার পর সর্বশেষ অনুমোদিত পাঠে এই সীমাই বহাল রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিলটি অনুমোদনের পর পর্তুগালে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আইনটি কার্যত মুসলিম নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করবে এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়াবে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বলেছে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য একটি হুমকি হতে পারে। সংস্থাটি প্রেসিডেন্টকে বলেছে, তিনি যাতে বিলে স্বাক্ষর না করেন এবং সেই সঙ্গে সাংবিধানিক পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে বিলটির সমর্থকদের দাবি, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়; বরং জননিরাপত্তা, পরিচয় যাচাই এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তাদের মতে, জনপরিসরে সবার মুখ দৃশ্যমান থাকা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয়।
প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পেলে পর্তুগাল ফ্রান্স, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর কাতারে যোগ দেবে, যেখানে জনপরিসরে সম্পূর্ণ মুখ ঢেকে রাখার উপর বিভিন্ন মাত্রার নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যেই কার্যকর রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন