প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাস্তাঘাটজুড়ে গাড়ির হর্নের আওয়াজ নেই, নেই ট্রাফিক জ্যামের চেনা ব্যস্ততা। বরং যেখানে সড়ক থাকার কথা, সেখানে চলছে পানি। এমনই এক জাদুকরি ও ঐতিহ্যবাহী শহর হলো ইতালির ভেনিস। এই শহরটি সমতল ভূমির উপরে নয়, বরং সমুদ্রের ১১৮টি ছোট ছোট দ্বীপের ওপর গড়ে উঠেছে।
ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের একটি উপহ্রদে অবস্থিত এই দ্বীপগুলোকে যুক্ত করেছে ৪০০টিরও বেশি সেতু। দ্বীপগুলোর মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা খালগুলোই শহরের প্রধান যাতায়াতের পথ।
ঐতিহাসিকভাবে বাহিরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মানুষ মূল ভূখণ্ড ছেড়ে এই লেগুন অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্বীপগুলোতে বসতি গড়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে ভেনিস পরিণত হয় ব্যবসা, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে।
ভেনিসের প্রাণকেন্দ্র হলো এর বিস্তৃত খাল নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে গ্র্যান্ড ক্যানাল শহরের প্রধান জলপথ হিসেবে পরিচিত। দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ভবন, গির্জা ও প্রাসাদ শহরটিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।
স্থানীয়দের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ‘ভাপোরেত্তো’ ওয়াটার বাস ও ওয়াটার ট্যাক্সি। আর পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হলো ঐতিহ্যবাহী গন্ডোলা নৌকায় চড়ে ছোট খালগুলো ঘুরে দেখা।
শুধু ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের জন্য নয়, ভেনিস তার শিল্পকলা, স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে। সেন্ট মার্কস ব্যাসিলিকা, রিয়ালতো ব্রিজ এবং ডোগেস প্যালেস দেখতে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক ভিড় করেন।
ভেনিস ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় হলো এপ্রিল-জুন এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর। গ্রীষ্মকালে দর্শনার্থীদের চাপ অনেক বেড়ে যায়। পর্যটকেরা ভেনিস মার্কো পোলো বিমানবন্দর কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন শহর থেকে ট্রেনে করে ভেনিস সান্টা লুচিয়া স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন।
১১৮টি দ্বীপ, শত বছরের পুরোনো কাঠের ভিত্তি আর জলপথনির্ভর জীবনযাত্রার সমন্বয়ে ভেনিস আজও বিশ্বের সবচেয়ে আলাদা ও মোহনীয় শহরগুলোর একটি।
সূত্র: এনডিটিভি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন