প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জুলাই সনদকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবিধান এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিএনপির উচিত ছিল গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুলাই সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সাইফুল হক আরও বলেন, নবনির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বিএনপির জন্য এটি একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন ও গৌরবের বিষয় হতে পারত। কিন্তু বিএনপি সেই সুযোগ গ্রহণ না করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটের প্রশ্নমালায় জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ও সমালোচনা ছিল। তবুও তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। জনগণও বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করেছে। এই রায় যথাযথভাবে ধারণ করা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব ছিল।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি কেন নির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কার্যকর করার সুযোগ গ্রহণ করেনি, সে বিষয়ে কোনো যুক্তিসংগত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। এর ফলে বিএনপি জুলাই সনদকে মানে না কিংবা মৌলিক সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণা জোরালো হয়েছে। এসব প্রচারণা অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক অপপ্রচার হলেও বিএনপির ব্যাখ্যার দুর্বলতা মানুষের মধ্যে দলটির অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি এখন যে উদ্যোগ নিচ্ছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেও একই কাজ করা যেত। ২৪৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংসদে দলটির অবস্থানের বাইরে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। তবুও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির এইটুকু ঝুঁকি নেওয়া উচিত ছিল।
সাইফুল হক আশা প্রকাশ করেন, আগামী জানুয়ারিতে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হিসেবে জুলাই সনদের প্রস্তাবসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংশোধনী বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। তিনি আশা করেন, আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব প্রস্তাব গৃহীত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন