প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সময়ের খাতায় ১৯৮৬ সালের ১৬ অক্টোবর একটি নাম লেখা হয়েছিল— খন্দকার নিপুণ হোসাইন। শরতের নরম আলোর মতোই স্বচ্ছ একটি মানুষ।
গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের শান্ত-স্নিগ্ধ সালেংকা গ্রামে। সেই গ্রামের মাটি, ধানের ঘ্রাণ, মেঠো পথের ধুলো আজও যাঁর গায়ে লেগে আছে।
তাঁর শৈশব-কৈশোরের সোনালি দিনগুলো কেটেছে কালিহাতী উপজেলা শহরে— বাবা মায়ের স্নেহের বন্ধনে কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়া গ্রামে। বাবা-মায়ের কাছেই শিক্ষার হাতেখড়ি হলেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের শুরু সাতুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে কালিহাতীর ঐতিহ্যবাহী আর এস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে এসএসসি এবং ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ২০০৪ সালে এইচএসসি পাস করেন।
সরকারি সা'দত কলেজ, করটিয়া থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সংখ্যার জটিলতায় খুঁজে পেয়েছেন জীবনের শৃঙ্খলা। কিন্তু তিনি শুধু হিসাবের ছাত্র ছিলেন না, ছিলেন সংস্কৃতির ছাত্র। নিয়মিত বিতর্ক করতেন, আবৃত্তি করতেন, বক্তব্য রাখতেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল আগুন, যুক্তিতে ছিল আলো। আর সেই আলো থেকেই জন্ম নিল একটি ইতিহাস— সরকারি সা'দত কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।
তিনি শুধু একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেননি— একটি প্রজন্মের উচ্চারণের স্থপতি, বাচনভঙ্গির নিপুণ কারিগর। কলেজের সময়ের কণ্ঠস্বরের মানচিত্র এঁকেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মশালে। বিতর্কের অবকাশে তিনি শুধু তর্ক শেখাননি, শিখিয়েছেন শুদ্ধতা, শব্দের শিষ্টাচার, বিনয়ের দৃঢ়তা। আজও কলেজের সবুজ চত্বর, পুরোনো ইটের দেয়াল, অডিটোরিয়ামের নীরবতা— তাঁর কণ্ঠের অনুরণনে কেঁপে ওঠে ফের সংলাপে, রেখে যাওয়া আশা জাগানিয়ায়।
তাঁর সহস্র গুণের ভিড়ে অন্যতম গুণ— তিনি শোনেন, শোনাতে জানেন। বলেন হৃদয় ছুঁয়ে, মায়া মিশিয়ে, দ্যুতি ছড়িয়ে। এই শোনা আর বলার মাঝখানেই— তাঁর নিপুণতার পূর্ণতা, স্বজন মানুষ হয়ে ওঠার গল্প।
খন্দকার নিপুণ হোসাইনের ব্যক্তিত্ব বহুমাত্রিক— পেশাগত জীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষ, দায়িত্ববান ও সৎ। সাংগঠনিকভাবে— তিনি নেতা নন, অভিভাবক। সবাইকে নিয়ে একসাথে চলতে ভালোবাসেন, আগলে রাখতে চান পরম মমতায়। তিনি মানবিক, পরোপকারী। মানুষকে সম্মান দেওয়া তাঁর সবচেয়ে বড় অলঙ্কার।
(নিন্মোক্ত শিরোনামে কয়েকটি চরণে কবিতায় শেষ করতে চাই এই সামান্য লেখা, সময় নিয়ে লিখলে একটা আস্ত গ্রন্থ হবে, নিশ্চয়ই লিখবো)
'নিপুণতার জন্মদিন'
জন্মদিনে আপনাকে নিয়ে লিখতে গেলাম—
কিন্তু শব্দেরা থমকে দাঁড়ালো, ছন্দেরা পথ হারালো,
কারণ আপনাকে নিয়ে কবিতা হয় না নিপুণ ভাই,
আপনাকে নিয়ে লিখতে গেলে তা হয়ে যায় ইতিহাস, হয়ে যায় মহাকাব্য।
খন্দকার নিপুণ হোসাইন— এটা কোনো নাম নয়, এটা একটা প্রতিষ্ঠানের নাম। একটা আশ্রয়ের নাম, একটা ভরসার ঠিকানা।
এটাই তো নিপুণতা—
হাতের নিপুণতা নয়, মনের নিপুণতা,
কথার নিপুণতা নয়, কাজের নিপুণতা,
যে নিপুণতায় মানুষ মানুষকে আপন করে নেয়।
মানুষ ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে, আর আপনি ব্যস্ত অন্যকে বড় করতে—
নিজে উচ্চতায় ওঠেন না, অন্যের উচ্চতায় ওঠার সিঁড়ি হন,
নিজের আলোয় অন্যকে আলোকিত করেন।
আর তাই তো আলো নেভে না, আলো জ্বলে, কারণ আপনি অনির্বাণ।
প্রিয় বিতার্কিক— তর্কে আপনি শিল্প,
প্রিয় সংগঠক— সংগঠনে আপনি ছন্দ,
শুধু কথার মালা গাঁথেন না, আপনি শব্দ বোনেন,
আর শব্দের সুতোয়, বাক্যের বুননে— মুগ্ধতার জাল তৈরি করেন, সে জালে একবার আটকালে, কেউ ফিরতে চায় না।
আপনি কেবল জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নন,
আপনি শিশুদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অভিভাবক।
আপনি টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান—
লৌহজং নদীর ঢেউয়ের কলতানের মতো আপনার কণ্ঠ উচ্চকিত, টাঙ্গাইলের শাড়ির ভাঁজের মতো আপনার সৃজনশীল কর্মে নিপুণতা লেগে থাকে সর্বক্ষণ।
আপনার শেকড় সাদা কাদামাটির—
আপনার মা-বাবা ছিলেন সাদা মনের মানুষ,
ধবল মেঘের মতো সাদা, শিউলির মতো সাদা,
সেই সাদা আলোয় ধুয়েই আপনি আজ এত নির্মল।
আর আপনার ঘর— সে তো আলোর ঘর।
আপনার সহধর্মিণী— তিনিও কর্মে, মর্মে সমান আলোকিত,
তিনিও চাকরি করেন, সংসার করেন, আলো বোনেন—
দু'জন মিলে আপনারা এক আলোর সংসার,
যেখানে চাকরি শুধু জীবিকা নয়, জীবনের ব্রত।
সেই ব্রতের, সেই প্রেমের পূর্ণতা— আপনাদের আদরের ধন, প্রিয় সন্তান সংলাপ খন্দকার।
সংলাপের নামেই তো ভবিষ্যতের সংলাপ লেখা আছে—
বাবার মতোই সে-ও একদিন কথার মালা গাঁথবে, মানুষকে মুগ্ধ করবে।
আজ ১৬ অক্টোবর, এই শুভদিনে বলি,
নিপুণ ভাই— দীর্ঘজীবী হোন,
আপনার বয়স না বাড়ুক, বাড়ুক আ…
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন