প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জালালপুর-লোহাজুরী সড়কের স্বনির্ভর মোড় এলাকায় মঙ্গলবার তোলা একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে ইট বেরিয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় এই ইটগুলোও উঠে গেছে।
এরপর মাটি উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে। আসলে, একটু অসতর্ক হলেই উল্টে যেতে পারে ইজি বাইকের মতো হালকা যান।
এমনই একটি সমস্যা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জালালপুর-লোহাজুরী সড়কের।
জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নকে উপজেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য গুরুত্ব সহকারে পরিচিত এই সড়কটি বর্তমানে দুর্ভোগের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দিন কাটাতে হচ্ছে অসুবিধার মধ্যে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই সড়ক ব্যবহার করে আলিম মাদরাসা ও পরীক্ষা কেন্দ্র, বালিকা মাদরাসা এবং সরকারি বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া রোগী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের জন্যও একই রকমের ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রকাশ করছেন, সড়কটির খারাপ অবস্থার জন্য ব্যবসায় মারাত্মক মন্দা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এই সড়কে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। ফলে বেশ কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে যায়। তাদের মতে, সড়কটিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য পিচের পরিবর্তে আরসিসি ঢালাই করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নরসিংদীর মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করে। কটিয়াদী মডেল থানার সামনে থেকে লোহাজুরী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কটির অধিকাংশ নাজুক। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে পরীক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে, সড়কের বড় বড় গর্তে পড়ে প্রায়ই যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। কখনও কখনও যানবাহন উল্টেও যায়। হাসপাতালের রোগী নিয়ে যেতে গিয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে এই সড়কের ঝাঁকুনির কারণে প্রসূতি রোগীর নবজাতকের মৃত্যু ঘটেছে।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ রয়েছে। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমলে চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। জালালপুর ইউনিয়নের নদীর বাঁধসংলগ্ন চালের মিল এলাকা থেকে থানার পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। নিচু হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য, ইট ও বালুবাহী ট্রাক্টরের অতিরিক্ত চলাচলে সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় সড়কের জায়গা দখল করে বাড়ি ও দোকানের বারান্দা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।
জালালপুরের ফেকামারা গ্রামের বাসিন্দা মানিক বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে চরম কষ্ট হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে টেকসই কাজ হয় না। একবছর না ঘুরতেই আবারও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। আরসিসি ঢালাই করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।’
ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান বলেন, ‘সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। বৃষ্টির সময় গাড়ির চাকায় কাদাপানি ছিটকে দোকানের ভেতর পড়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।’
মনির হোসেন, ফাহিম ও সবুজসহ কয়েকজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ‘কলেজে গিয়ে জামাকাপড় কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। এইচএসসি পরীক্ষা চলছে, কিন্তু সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে আমাদের খুব কষ্টে হচ্ছে।’
অটোরিকশার চালক রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘২০ মিনিটের রাস্তা যেতে এখন ৪০ মিনিট লাগে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলে রোগীর অবস্থার আরো খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন পর পর গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, আবার অনেক সময় গাড়ি উল্টেও যাচ্ছে।’
লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের অবস্থাও একই। কটিয়াদীতে যেতে হলে মনে ভয় কাজ করে।’
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক 'কালের কন্ঠ'-কে বলেছেন, ‘সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করেছি। এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন