১১:০৩ পি.এম
সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে অপরাধ বাড়ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যেমন ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং খুন। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই অভিযানের ফলে গ্রেফতারও হচ্ছে। তবে তবুও দেশের শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই কিশোর অপরাধের বিস্তার ঘটেছে। কয়েক বছর আগে কিশোরদের মধ্যে এমন অপরাধ প্রবণতা দেখা যায়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির বিস্তার, স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই এবং মাদক ব্যবসার কারণে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে। কিশোর আইনটির নমনীয়তার সুযোগ নিয়ে অনেক অভিযুক্ত দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, সমাজের সুবিধা-বঞ্চিত পরিবারের কিশোররাই অধিক মাত্রায় অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ছে। সেক্ষেত্রে সমাজের স্বার্থান্বেষী মহল ওই কিশোরদের একত্রিত করে কিশোর গ্যাং তৈরি করছে এবং তাদেরকে নানা অপরাধে ব্যবহার করছে। কিন্তু দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও যথাযথ প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। কারণ গুরুতর অপরাধে আটক হওয়ার পরও, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই কিশোর দুর্বৃত্তরা আবার নিজেদের এলাকায় ফিরে আসে। এর ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে রাজধানীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লা এবং গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে।
সূত্র জানাচ্ছে, দেশে মাদক বিস্তারের ফলে কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মাদকাসক্ত সেই কিশোরেরা হত্যার মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। মূলত কিশোর গ্যাংগুলো সাধারণত স্থানীয় বড় ভাই বা প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওই প্রভাবশালীরাই নিজেদের স্বার্থে মাদক, চাঁদাবাজি এবং দখলবাজিতে কিশোরদের ব্যবহার করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় অপরাধে জড়িয়ে পড়া আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় একটি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা ঘটে। ওই জেলার তথ্যানুযায়ী, বিগত ২০২৫ সালে ১১১টি খুন এবং ৬০টি ছিনতাই মামলায় ৪৬৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। ঝিনাইদহে ছয় মাসে ৩৩ মামলায় ৮৫ জন গ্রেফতার হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িত। তাছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তথ্যানুযায়ী, সেখানে প্রায় ২০০ সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৪০০। গত ছয় মাসে ৫৪৮টি অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং ৬৪ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতার তথ্য পাওয়া গেছে। একই চিত্র দেশব্যাপী অন্যান্য জেলাগুলোতেও। আর এক মাসের মধ্যে ঢাকায় সহস্রাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম বেশি দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া মিরপুর, পলবী, উত্তরা, বাড্ডা, ভাটারা, শাহজাহানপুর, রামপুরা, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, পুরাতন ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর এলাকার মানুষও কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় স্কুল ক্রিকেটের শিরোপা জিতল বীট মডেল স্কুল
সূত্র আরো জানাচ্ছে, ক্যানসারের মতো সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন এবং মাদক সেবনে কিশোর গ্যাং জড়িত। তাদের হাতে চাপাতি, লাঠি ও অস্ত্র রয়েছে। পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা তাদের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এসব কিশোরদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা জাতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়, ঘর থেকে তাদের পিতা-মাতা এবং অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। তাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, তা খোঁজ রাখতে হবে। এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কোমলমতি স্কুলগামী কিশোরদের একটি বিশাল অংশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
এদিকে, এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারওয়ার জানিয়েছেন, রাজধানীর সব থানায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গ্যাং সদস্যদের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকদেরও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন