প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্তমান বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিল্প ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা। দেশের অর্থনীতির বর্তমান আকার প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার হলেও এর বিপরীতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই বাস্তবতায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিল্প খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার একান্ত প্রয়োজন বলে আমি অনুভব করি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল শক্তি এখনও উৎপাদন ও রপ্তানিনির্ভর শিল্প খাত। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল এবং সংশ্লিষ্ট খাত লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের কারণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের স্থানীয় শিল্পকে বড় চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে সুতা আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে গিয়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এবং এর ফলে দেশের স্থানীয় শিল্পে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। দেশীয় উৎপাদন কমছে, অনেক কারখানা তাদের সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছে না। একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশের একটি অংশ বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এর ফলে শুধু শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত নয়, কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়েছে।
এই অবস্থায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদ্যমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখা। তাই নতুন শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি পুরনো শিল্পকে শক্তিশালী করার জন্য সহজ এবং কার্যকর অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্যাংক খাত নিজের মধ্যেও চাপের সম্মুখীন। খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি ও তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক শিল্পে নতুন ঋণ দিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, যদি সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্তভাবে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করে, তাহলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ আরও সংকুচিত হবে। এর ফলে স্থানীয় বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সম্ভব। তাই অর্থায়নের বিকল্প উৎস নিয়ে এখনই মাথা ঘামানো প্রয়োজন। পুঁজিবাজারকে কার্যকর করার পাশাপাশি বিদেশি ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তার সঠিকভাবে ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। একই সাথে এমন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে, যা সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং মানুষের আয় বৃদ্ধি করে। কারণ, অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি আসে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতা থেকে।
অতএব, জ্বালানি দক্ষতাকে এখন বড় গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি, যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী লাইট, ইনভার্টার, আধুনিক মোটর এবং ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে নীতি সহায়তা দিলে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
সবমিলিয়ে এবারের বাজেট শুধুমাত্র ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি হওয়া উচিত শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার বাস্তব পরিকল্পনা। যদি বিদ্যমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে না পারি, তাহলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোশিয়েশন (বিটিএমএ)।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন