প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় টানা চার মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেই, যার কারণে চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ সরকারি সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার কারণে নাগরিক সেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ মধ্যনগরের ইউএনও উজ্জ্বল রায় বদলি হওয়ার পর ধর্মপাশা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মধ্যনগরের ইউএনওর দায়িত্ব পালন করেন। পরে গত ২৩ জুলাই সঞ্জয় ঘোষ চট্টগ্রামে বদলি হলে মধ্যনগরের ইউএনওর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলার ইউএনও জনি রায়কে।
এদিকে, ২০২১ সালে উপজেলা হিসেবে যাত্রা শুরু হওয়ার পরও মধ্যনগরে পৃথক সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় এখনও গড়ে ওঠেনি। এতে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে লোকজনকে ধর্মপাশা উপজেলা থেকে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
ধর্মপাশা উপজেলার নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মধ্যনগরের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাতে হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে যথেষ্ট চাপ বেড়ে গেছে।
মধ্যনগরের ইউএনও পদটি শূন্য থাকার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। তবে, স্থায়ী ইউএনও না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সেবাপ্রত্যাশীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ মতে, নাগরিক সনদ ও বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া, জন্মনিবন্ধন সংশোধন, উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভা, সরকারি কর্মসূচির তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ভূমি-সংক্রান্ত সমন্বয়সহ অনেক প্রশাসনিক কাজে স্বাভাবিক গতি নেই।
অনেক সেবাপ্রত্যাশী একাধিকবার উপজেলা পরিষদে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার সীমান্তবর্তী বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অজিত হাজং জানান, ‘সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রশাসনিক সেবা নিতে এসে ইউএনও না থাকায় আমাদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।’
স্থানীয় সংবাদকর্মী শিহাব মিয়া মন্তব্য করেন, ‘উপজেলায় স্থায়ী ইউএনও না থাকায় জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। দ্রুত একজন স্থায়ী ইউএনও পদায়নের দাবি জানাচ্ছি।’
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মধ্যনগরে ইউএনও নেই। পাশের ধর্মপাশা উপজেলার ইউএনও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহে সীমিত সময় উপস্থিত থাকায় দুর্গম এ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ইউএনও নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আশরাফুর রহমান জানালেন, ‘সিলেট বিভাগের পাঁচটি উপজেলায় বর্তমানে ইউএনওর পদ শূন্য রয়েছে। নতুন কর্মকর্তারা যোগদান করলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব উপজেলায় পদায়ন করা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন