প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেরানীগঞ্জকে একটি আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমান এসে পৌঁছান, যিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি শান্তি, উন্নয়ন এবং মাদকমুক্ত একটি সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দাবি করেন যে, জনগণের কল্যাণে উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাস্তবায়নের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) কেরানীগঞ্জের চর ওয়াশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে, তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং এই বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।
আমান উল্লাহ আমান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ব্যাগ, স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি আলোচনা করেন যে, শিক্ষা খাতে চলতি বাজেটে সর্বাধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো যোগ করেন, নির্বাচনের পূর্বে তারেক রহমান জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলোর বাস্তবায়ন এখন শুরু হয়েছে। অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আসন্ন সময়ে হেলথ কার্ডের কার্যক্রমও শুরু হবে বলে আশাবাদী।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ বাড়াতে খাল খনন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিলেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি জানান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশে খাল খননের কর্মসূচি চলছে।
এছাড়া, শিক্ষা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, "শিক্ষা ছাড়া ভালো মানুষ হওয়া যায় না।" সবাইকে শিক্ষিত হতে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে আগামী ১ নভেম্বর চর ওয়াশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্বোধন হওয়ার কথা জানান।
তিনি আরো বলেন, কেরানীগঞ্জের যেসব স্থানে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, সেখানেও নতুন বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি, যেসব এলাকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বঞ্চিত, সেখানে উচ্চবিদ্যালয় এবং যেখানে কলেজ নেই, সেখানে কলেজ প্রতিষ্ঠারও পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থের অভাবে যেন কেরানীগঞ্জের কোন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেই বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি মাদক, চাঁদাবাজি এবং ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে জানান। তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জে এসব দুর্নীতির কোন স্থান থাকবে না। তিনি মন্তব্য করেন, "মাদক সব ধরনের অপরাধের মূল উৎস। এটি পরিবারকে ধ্বংস করে এবং সমাজকে অকার্যকর করে তোলে।" সুতরাং, যদি কেউ মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি অথবা ভূমিদস্যুতায় জড়িত হন, তাহলে তিনি বিএনপির কর্মী হলেও তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে বাবুবাজার সেতু, ওয়াশপুর সেতু, হযরতপুরের আলিপুর সেতুসহ একাধিক সেতু নির্মাণেরও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, কেরানীগঞ্জে এমন কোন এলাকা নেই, যেখানে রাস্তা-ঘাট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে কেরানীগঞ্জের জনগণ তাকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। এক সময়ে কেরানীগঞ্জের ৯৫ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না, কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছেছে।
আমান বলেন, তার লক্ষ্য কেরানীগঞ্জকে উন্নয়ন, শান্তি, মাদকমুক্ত এবং সন্ত্রাসমুক্ত একটি আধুনিক শহরে পরিণত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'অন্য কোন দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।'
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী শামীম হাসান এবং বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন