প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মানুষের মধ্যে অধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি সম্পর্কে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হওয়া।
এই অর্জনকে টেকসই করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) আয়োজিত এক আলোচনা সভার বক্তারা।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়।
একের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কাজে রূপ দিতে হবে।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্তর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, গবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, আরইউজের সাবেক সভাপতি ও গবেষক-সাংবাদিক সরদার আবদুর রহমান, আরইউজের সাবেক সভাপতি ও কথাশিল্পী ডা. নাজিব ওয়াদুদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদারবক্স হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহ্দী।
সভায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন।
এছাড়া বক্তব্য দেন আরইউজের সহসভাপতি মঈন উদ্দিন, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক সোহেল মাহবুব, দৈনিক আমার দেশের রিপোর্টার এম শামীমসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতারা।
অতিথিরা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে।
সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।
গুজব, অপতথ্য ও রাজনৈতিক পক্ষপাত এড়িয়ে জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের সংস্কার কার্যক্রম এবং সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে।
এবং একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী—কোনো পক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে স্বাধীন, পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কার, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের পাশাপাশি শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ীসহ সব পেশাজীবীর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।
তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সামনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক চাপ, দুর্নীতি, প্রশাসনিক সংস্কার, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং সামাজিক বিভাজনসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভার বক্তারা বলেন, সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে দায়িত্বশীল সেতুবন্ধন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাদের ঐক্যবদ্ধ, পেশাদার ও নৈতিক ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন