প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বিচারপতি রেমন্ড জোন্ডু সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সংগ্রাম ও মানবিকতার এক অনন্য অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর সেই স্মৃতিচারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।
রেমন্ড জোন্ডু জানান, কলেজ শেষ করার পর তাঁর উচ্চশিক্ষা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কারণ, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। সংসারে উপার্জন করার মতো কেউ ছিলেন না। একমাত্র উপার্জনকারী তাঁর মায়ের আয়ও প্রায় দুই বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পড়াশোনার খরচ তো দূরের কথা, দৈনন্দিন খাবারের সংস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় তরুণ রেমন্ড বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আবেদন জানান। কিন্তু কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। বরং অনেকেই তাঁকে পরামর্শ দেন, পড়াশোনা বাদ দিয়ে কোনো কাজ খুঁজে নিয়ে আগে পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে।
তবে রেমন্ড জোন্ডু হাল ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত তিনি স্থানীয় বাজারের এক অপরিচিত ভারতীয় মুদি দোকানদারের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন।
তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর ওই দোকানদার কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই শুধু একটি প্রশ্ন করেন, “তুমি কি সত্যিই পড়তে চাও? এজন্য কি তোমার অর্থের প্রয়োজন?”
রেমন্ডের সম্মতিসূচক উত্তরের পর দোকানদার বলেন, “আমি তোমাকে নগদ টাকা দিতে পারব না। তবে তোমার মাকে বলবে, তিনি যেন প্রতি মাসে একদিন আমার দোকানে এসে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যান। আমি হিসাব রাখব। তুমি যখন নিজের পায়ে দাঁড়াবে, তখন ইচ্ছা হলে শোধ করে দেবে।”
এই মানবিক সহায়তাই রেমন্ড জোন্ডুর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি সেই দোকানদারের কাছে গিয়ে ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তখন দোকানদার এমন একটি কথা বলেন, যা আজও রেমন্ড জোন্ডুর হৃদয়ে গেঁথে আছে।
তিনি বলেন, *“Just do to others what I have done to you.”* অর্থাৎ, *“আমি তোমার জন্য যা করেছি, তুমি অন্যদের জন্যও তাই করো। তাহলেই আমার ঋণ শোধ হবে।”*
রেমন্ড জোন্ডু জানান, সাক্ষাৎকারে এই ঘটনাটি স্মরণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
মানবিকতা, সহমর্মিতা ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতার এই গল্পটি আজও প্রমাণ করে— একটি ছোট্ট সহায়তা একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, আর সেই পরিবর্তন সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন