প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জনবল সংকটে দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দর পরিচালকের পদ শূন্য হয়ে ৯ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এই শূন্য পদটি এখনো পূরণ করা হয়নি। এর ফলে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু পরিচালকের পদ নয়, স্থলবন্দরটি বড় ধরনের জনবল সংকটে ভুগছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকার কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন শূন্য পদ পড়ে থাকলেও সেসব পদে জনবল নিয়োগের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
বেনাপোল স্থলবন্দরে ৭৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় দায়িত্ব পালনরত কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। ৩ আগস্ট থেকে বন্দরের পরিচালকের পদটি শূন্য রয়েছে। শীর্ষ পদে দ্রুত নিয়োগ না হলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বেনাপোল বন্দরে উপপরিচালকদের মোট চারটি পদ রয়েছে, তবে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। একজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের চাপ রয়েছে। বন্দরের ভিন্ন বিভাগ ও স্থানে সমন্বয় করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। সূত্র জানাচ্ছে, বন্দরের গুদাম পরিচালনার জন্য মোট ২১৬টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৪১ জন।
অনুমোদিত পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদে কর্মী নেই। ফলে বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও গুদাম এলাকায় পণ্য ওঠানো-নামানোর সহিত যুক্ত কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, যদি বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, তবে আমদানিকারকদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, এবং বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্খিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, ঢাকায় অবস্থিত প্রধান দপ্তরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে উপপরিচালকের অনুমোদিত চারটি পদ রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সাতজন, অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় সেখানে অতিরিক্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন জনবল নিয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের সঠিক পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, একটি স্থানে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকলে এবং অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মকর্তা সংকট থাকলে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্খিত সেবা দিতে সক্ষম হয় না।
বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. মতিউর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বেনাপোল বন্দরে জনবল সংকটের কারণে আমদানি করা পণ্য যথাসময়ে ওঠানো-নামানোর কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে এক দিনের কাজ মাঝে মাঝে দুই দিনে শেষ করতে হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন