প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সুপারভাইজর ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ বিষয়ক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে মাগুরার মহম্মদপুর ও বাগেরহাটের চিতলমারীতে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সামাজিক সেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে গতকাল রোববার বিক্ষোভ এবং সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধরা।
মাগুরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহম্মদপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সুপারভাইজর ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রির অপসারণের দাবিতে বিএনপির একটি অংশ মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। তারা নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে, বিএনপির অন্য একটি গ্রুপ অনিয়ম না হতে দাবি করে মিছিল-সমাবেশ করেছে।
গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের মধ্যে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা মহম্মদপুরের ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি সম্পর্কিত অভিযোগ তুলে ফ্যাসিস্ট এবং ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়োগের কথা উল্লেখ করেন। বক্তারা বলেন, তারা নীতিমালা অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি পক্ষের সুপারিশ মোতাবেক বৈষম্যের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সদস্য এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু মিয়া ও সাবেক সদস্য সচিব এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যার আকতারুজ্জামান আক্তার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সাজ্জাদুল আলম খান নান্নু, যুবদল নেতা শেখ শাহানুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি পারভেজ আলম প্রমুখ।
অন্যদিকে মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মৈয়ুর আলী মৃধা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজর নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নীতিমালা অনুসরণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে গতকাল রোববার স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভান্ডারের জন্য লোক নিয়োগে অনিয়ম, বৈষম্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদ স্বরূপ এই বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার, ঝাড়ু ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ইউএনও খাদিজা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রণজিৎ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এই সময় জনতার ভয়ে অফিসগুলো বন্ধ ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ দলের স্থানীয় নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল ৯টা থেকে দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় ইউএনও, সমাজসেবা, শিক্ষা অফিস, মৎস্য অফিসসহ সব দপ্তরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভান্ডার সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজর পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত ছিল যে, পূর্বে বিবিএসের ডিজিটাল জরিপকাজে অভিজ্ঞ এবং অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রার্থীদের এই নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হবে। কিন্তু তা না করে বৈষম্য এবং দুর্নীতির মাধ্যমে ওই দুই পদের লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে অনিয়মকারী ইউএনও খাদিজা আক্তার এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রণজিৎ বিশ্বাসের অপসারণের দাবি করেন। এতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা। এ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। এজন্য জনগণ অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন শরিফুল হাসান অপু, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, শিপন মুন্সি, জাকারিয়া মিলন, নিয়ামত আলী খান, জবরুল শেখ প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন