বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ ইং
০৪:৪৪ পি.এম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যখন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেওয়া শুরু করলেন, তখন বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়। এক পর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে বের হয়ে যান।
ওয়াক আউটের পরে এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি তিন শব্দের পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘Get out Chuppu.’
এ দিনের ঘটনার মধ্যে রয়েছে, জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানালে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাদের আসন থেকে দাঁড়িয়ে যান। তখন তারা ‘জুলাইয়ে গাদ্দার’ লেখাসংবলিত লিফলেট উত্থাপন করেন। স্পিকার তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু এই আহ্বানের পরও পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হতে থাকে।
এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যখন ভাষণ দেওয়া শুরু করেন, তখন বিরোধী দলের এমপিরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাদের মধ্যে অনেককেই ‘গেট আউট চুপ্পু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শুরুতেই যখন রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলছিল, তখন সংসদ থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে বিরোধীদলীয় এমপিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত একটি ইতালীয় সামরিক ঘাঁটিতে রাতে বিমান হামলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ইতালির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে এটিকে ইরবিলে ইতালীয় ঘাঁটির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বলে উল্লেখ করেছিল। তবে পরে মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানান, এটি আসলে একটি ড্রোন ছিল, যা সম্ভবত দুর্ঘটনাবশত একটি সামরিক যান ধ্বংস করেছে।
এক্সের মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ইতালীয় সেনাদের মধ্যে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সবাই নিরাপদ আছে।’
মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো আরো জানায়, ড্রোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে ইতালীয় ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়নি, বরং উচ্চতা হারানোর পর দুর্ঘটনাবশত সেখানে আঘাত হানতে পারে।
ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজ্জোত্তি সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-কে জানান, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সম্ভাব্য আকাশ হামলার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং সেনারা তখন বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, হামলাটি কোথা থেকে এসেছে তা এখনো জানা যায়নি। বিমান হামলার সতর্কতা শেষ হলেও বিশেষজ্ঞরা এখনো এলাকা পরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ইরবিলে প্রায় ৩০০ ইতালীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে, যারা কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
তবে পিজ্জোত্তরের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে সম্প্রতি সেখানে সেনা সংখ্যা কিছুটা কমানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে টানা ১২তম দিনের মতো মুসল্লিদেরকে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে না ইসরায়েল। এই বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছে কাতার, জর্দান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আটটি আরব ও ইসলামিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, ‘জেরুজালেমের পুরাতন শহর এবং এর উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকারের উপর ইসরায়েলিদের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
বিবৃতিতে তারা আরও বলেছেন, এই অবৈধ ও অযৌক্তিক পদক্ষেপের তারা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান এবং নিন্দা জানাচ্ছেন। সেইসঙ্গে আল-আকসা মসজিদ বা আল-হারাম আল-শরিফে মুসল্লিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডেরও তারা নিন্দা করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, অধিকৃত জেরুজালেম বা এর ইসলামিক ও খ্রিস্টীয় পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের কোন ক্ষমতা নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা কেবলমাত্র মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত। জর্দানের আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত জেরুজালেম এনডাউমেন্টস ও আল-আকসা মসজিদ বিষয়ক বিভাগেরই সেখানে একমাত্র আইনগত কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করা উচিত।
মন্ত্রীরা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলকে আল-আকসা মসজিদের গেট বন্ধ রাখা বন্ধ করার এবং জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়াও, মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়ার পথে বাধা প্রদান না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও ইসরায়েলের ‘চলমান লঙ্ঘন’ বন্ধে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে ইসরায়েলি বাহিনী প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার বলেছে, মুসল্লিদের জন্য টানা বন্ধ রাখার নীতি ফিলিস্তিনিদের অধিকারগুলোকে স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করছে। হামাসও আল-আকসা মসজিদ টানা বন্ধের নিন্দা জানিয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘জুলাই সনদ ভঙ্গের মধ্য দিয়ে বিএনপি যাত্রা শুরু করল। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা ভালো বার্তা দিল না।’
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটরিয়াম চত্বরে কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই কথা বলেন।
সারজিস আলম জানান, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী, সংসদে স্পিকার সরকারি দলের হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে দেওয়ার কথা। কিন্তু সেটি বিএনপির কায়সার কামালকে দেওয়া হয়েছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়িয়েছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতি। এর মাধ্যমে বিএনপি স্বৈরাচার সরকারের লেজ ধরে তাদের কার্যক্রম শুরু করল। এটি আমাদের মর্মাহত করেছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের জনগণ, এমনকি বিএনপির মানুষও গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে রায় দিয়েছে। এর মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হতে হবে, গণহত্যার বিচার ও সংস্কার হতে হবে। এই বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে যদি এই সরকার মনে করে তারা জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করে টিকে থাকতে পারবে, এই সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারবে, এবং সংসদ স্বাভাবিকভাবে ফাংশন করবে, এটা কখনোই সম্ভব নয়।”
সারজিস আলম বলেন, ‘কোনো দল যদি তাদের দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে চায় আবার ক্ষমতার মোহে ডুবে স্বৈরাচারের পথে থাকতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ ও আমরা বিরোধী দল একসঙ্গে তাদের প্রতিরোধ করব।’
এনসিপির এই নেতা স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে। আমরা নির্ভার ছিলাম। মনে করেছিলাম ভোট গণনা সুষ্ঠু হবে। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু প্ল্যান করে টার্গেটেড আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। না হলে ২১২ আসনের বিপরীতে ৬৮ আসন সংখ্যাটা এমন হতো না। আমরা সেই জায়গা থেকে শিক্ষা নিয়ে, স্থানীয় নির্বাচনে যদি বিন্দুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করা হয়, আমরা আমাদের জায়গা থেকে শুধু প্রতিরোধ নয়, প্রতিহতও করব।’
তিনি যোগ করেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতাকর্মীরা সাংবাদিকের কার্ড নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট গণনায় ফলাফলকে প্রভাবিত করেছেন। তারা পোলিং এজেন্টদের টাকা বিনিময়ে কিনে নিয়েছিলেন এবং প্রভাব বিস্তার করেছেন। কিছু কিছু জায়গায় তারা প্রশাসনকে প্রভাবিত করেছেন। স্থানীয় নির্বাচনে আমরা এই সুযোগ দেব না।’
সারজিস বলেন, ‘আমরা ১১ দলীয় জোট স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ করি কিংবা জোটগতভাবে করি, কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং হতে দেওয়া হবে না। আমরা আগে যে ভুল করেছি, এবার সেই ভুল হতে দেব না।’
এর আগে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি বাতিল করায় বিএনপির সমালোচনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সময় ইরানের দ্বারা পরিচালিত এই হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোর ওপর বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুয়েতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন জানিয়েছে, এবাধিক ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরের ওপর আক্রমণ করা হয়। হামলার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়েত নিউজ এজেন্সির ডিরেক্টরেটের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজহির জানিয়েছেন, জরুরি পরিকল্পনার ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ সমন্বয়ে এই ঘটনাটি মোকাবেলা করা হয়েছে। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
তিনি কুয়েত রাষ্ট্র, এর আমির, জনগণ এবং সরকারের সকল ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্যও প্রার্থনা করেন।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুদ্ধের সময় নিহত হওয়ার পর কুয়েত বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। দেশটিতে অনেক মার্কিন সামরিক স্থাপনা বিদ্যমান রয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ৫ জন মারা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ