প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি উপজেলার এক তরুণকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার মা রেহেনা বেগম উর্মির কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে ইউএনও অভিযোগটি অস্বীকার করে দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
রেহেনা বেগম, ঘুষ হিসেবে দেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও রেহেনা বেগমের বক্তব্যে জানা যায়, ২০২৫ সালে পরিবারের কোন উপার্জনকারী না থাকায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সহায়তা চান। সেখানে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যার বিনিময়ে তিনি ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে রেহেনা বেগম ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা চাকরিতে যোগদানের পর পরিশোধ করার কথা বলেন।
এদিকে, সোমবার সকালে রেহেনা বেগম জানতে পারেন যে, ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরুর বদলির আদেশ হয়েছে। পরে তিনি দুপুরে ইউএনওর কাছে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে ইউএনও অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তাকে চেনেন না দাবি করেন।
উপজেলা চত্বরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রেহেনা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ হন। লাইভটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এতে প্রতিক্রিয়া জানান।
রেহেনা বেগমের দাবি, ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তিনি অপমানিত হয়েছেন। অভিযুক্ত ইউএনও তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটকানোর ভয় দেখিয়েছেন। তার ছোট ছেলেকে কিছু সময়ের জন্য আটকে রেখেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। ধারদেনা করে দেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত পেতে বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন রেহেনা বেগম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলিয়ার ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু সাংবাদিকদের মুঠোফোনে বলেন, "আমি ওই নারীকে চিনতে পারছি না। আমার বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করে ঘুষ দেওয়ার নাটক সাজিয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করছি। ওই নারীর সঙ্গে আমার কখনও দেখা বা কথা হয়নি। আর যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আগেই বাতিল করা হয়েছে। ওই নারীর ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন