প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ত্যাগের পরপরই একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার ফলে জাহাজে থাকা পাঁচ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে চারজন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন। ইউক্রেন সরকার এই হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। যদিও ভারত সরকার হামলার নিন্দা জানালেও তাদের বিবৃতিতে রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেনি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় ওডেসা বন্দর ছাড়ার সময় গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী এমভি গোল্ডেন লিও জাহাজটি হামলার কবলে পড়ে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় নাবিক ছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় মিশন পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে এবং আহত ভারতীয় নাবিকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভারত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, বেসামরিক নাবিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় বিষয়। এ ধরনের ঘটনা অবশ্যই পরিহার করা উচিত।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাহাজটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, কৃষ্ণসাগর এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।
ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, ভুট্টাবাহী গোল্ডেন লিও জাহাজটিতে ভারতীয় ও সিরীয় নাবিকরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজে আগুন ধরে যায়।
সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সারা রাত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে ৯ জন নাবিক এবং একজন মেরিটাইম পাইলট নিহত হন। জাহাজটির ১৭ জন নাবিকের মধ্যে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা telah হয়েছে।
এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির মালিক মুম্বাইভিত্তিক ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড। ওডেসা অঞ্চলের ইউক্রেনীয় গভর্নর জানিয়েছেন, চলতি মাসে ওই অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
এক দিকে, সোমবার রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি বাসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। একই দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলায় অন্তত আটজনের প্রাণহানি ঘটে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধরত উভয় পক্ষই হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন