প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মন্তব্য করেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে তরুণ প্রজন্ম সরকারকে লাল কার্ড দেখাতে এক মুহূর্তও দেরি করবে না। বর্তমান সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেনি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছিল যে নির্বাচনের পর তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। লক্ষ-কোটি মানুষের সামনে তারা যে ওয়াদা করেছিল, তা বাস্তবায়ন না করে জাতির সামনে নিজেদের মুনাফেক হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তিনি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘নবীন বরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শিবির সভাপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান উত্তরবঙ্গে এসে বলেছিলেন, আপনার গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দয়া করে রায় দিন। যারা সেদিন গণভোটের পক্ষে ভিক্ষা চেয়েছিলেন, সেই ভিক্ষুকের জাতি ক্ষমতায় আসার পর নিজেদের মুনিব মনে করছে। তারা এখন বলছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা না বললে জাতীয় নির্বাচন দেওয়া হতো না। ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল। তারা পূর্বে যে লুটপাট করেছিল, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সেগুলোর বৈধতা নেওয়ার জন্য জাতির কাছে ছল-চাতুরির আশ্রয় নিয়েছে।
নুরুল ইসলাম বলেন, বিগত ১৭ বছর শিবিরের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার নানা ধরনের প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে। তারা শিবিরকে রগ কাটার দল হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। এত নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে থেকেও আওয়ামী সরকারের আমলে শিবিরের কার্যক্রম তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ শিবির অত্যন্ত সুসংগঠিত একটি সংগঠন। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা মানবিক মর্যাদায় বেড়ে উঠুক। তারা নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখে আগামীর বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাবে।
তিনি আরও জানান, সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না কারণ এই রাষ্ট্রের সংস্কার হলে চিরস্থায়ী ক্ষমতার বন্দোবস্ত করা সম্ভব হবে না। ‘হ্যাঁ’ ভোটে ৩০টি পয়েন্টে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। তারা বলেছিল, নির্বাচিত হওয়ার পর সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর তারা সংবিধান সংস্কারের শপথ নেয়নি। তারা সংবিধানের এই মৌলিক সংস্কার চায় না।
কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হক মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন মণ্ডল, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি আনিসুর রহমান প্রমুখ।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানে অনার্স প্রথম বর্ষে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হওয়া ১৮টি বিভাগের নিবন্ধিত ২ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শেষে বিভিন্ন বিভাগের ২ শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন