প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বগুড়ার শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশের মাধ্যমে বিপুল চন্দ্র পাল (৪৮) নামের সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সেঞ্চুরি মোটেল নামের হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হোটেলটির সিসিটিভি ফুটেজ থেকে তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ অনুযায়ী, সেখানে বোরকা পরিহিত এক নারীর সঙ্গে বিপুল চন্দ্র পাল ছিলেন।
বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবার নির্বাচিত মেম্বার ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের সুপারভাইজার হিসাবেও কাজ করেছেন। বিপুল এরুলিয়া পালপাড়া এলাকার মৃত জিতেন্দ্র নাথ পালের পুত্র।
সূত্রমতে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় বিপুল চন্দ্র পাল সেঞ্চুরি মোটেলে এসে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরে হোটেল থেকে চেক আউটের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোন সাড়া না পাওয়ায় মোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয় এবং অবশেষে তারা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি ও সদর থানার দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং মৃতের স্বজনদের উপস্থিতিতে ৬১০ নম্বর কক্ষের দরজা খুললে বিপুল চন্দ্র পালকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে সেঞ্চুরি মোটেলের রিসেপশন ম্যানেজার মো. এনামুল হক প্রথমে দাবি করেছিলেন, রাত্রীযাপনের জন্য বিপুল একাই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
তবে, মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করার পর ঘটনাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ফুটেজে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে রাত ৯টায় প্রবেশ করেন বিপুল চন্দ্র পাল। এর ২ ঘণ্টা পর, ওই রুম থেকে বিপুলের সঙ্গে বোরকা পরিহিত এক নারী বের হয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর তারা দুজন মিলিত হয়ে ৬১০ নম্বর রুমে যান। কিছু সময় পরই ওই নারী একা রুম থেকে বেরিয়ে যান।
আরো জানা গেছে, বিপুল চন্দ্র পালের পরিবার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, রক্সি নামের এক ব্যক্তি বিপুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
নিহতের স্ত্রী বলেন, শুক্রবার রাতে মোবাইল ফোনে শেষ কথা হলে বিপুল তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি সারিয়াকান্দিতে রক্সি নামের এক ব্যক্তির বোনের বাড়ির দাওয়াতে যাচ্ছেন। ফিরতে রাত ১২টা কিংবা ১টা বাজবে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।
মৃতের মেয়ে ও প্যারামেডিক্যাল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিথি বলেন, ‘বাবা বলেছিলেন বোনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাবেন। সকাল থেকে ফোন বন্ধ ছিল। পরে উনার মৃত্যুর খবর পাই। কক্ষ থেকে ওষুধ পাওয়ার যে কথা ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উনাকে মেরে ফেলার জন্যই এসব করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রক্সি নামের এক লোক আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তাকে গ্রেফতার করলেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে। সিসিটিভি ফুটেজে কাকে দেখা গেছে, তাও পরিষ্কার হওয়া দরকার। বাবার মোবাইল ফোনও পাওয়া যাচ্ছে না।’
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক নূর আমিন মণ্ডল বলেন, ‘বিপুল অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। দীর্ঘ সময় শাহ ফতেহ আলী পরিবহনে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না।’
এরুলিয়া ইউনিয়নের বর্তমান ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. নূর আলম বলেন, ‘বিপুল আমার ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। গত নির্বাচনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম, কিন্তু আমাদের মাঝে কোনো বিদ্বেষ ছিল না। এলাকায় কোনোদিন কারো সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল না। আমরা এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বগুড়ার ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জালাল উদ্দীন বলেন, ‘নিহত ওই ব্যক্তি মাঝেমধ্যে ওই হোটেলে আসতেন এবং সময় কাটাতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ওই কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক জাতীয় একটি সিরাপ, ঘুমের ওষুধ, কোমল পানীয় ও পানির বোতল জব্দ করা হয়েছে। এখন সিসিটিভি ফুটেজের ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান বোরকা পরিহিত নারীর পরিচয় এবং এ ঘটনায় রক্সি নামের ওই ব্যক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন