প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানি সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি নতুন একটি খবরের মধ্য দিয়ে শিরোনামে এসেছে। তিনি একটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে লাইভগ্রুপের সংগঠনের সাথে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামে একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেছিলেন। খবর জানাচ্ছে, ২৯ বছর বয়সী এই শিল্পী হিজাব ছাড়াই এ করে ছিলেন। গানটি প্রকাশের পরে, নেটিজেনদের মধ্যে এটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। তবে পরে ইরানের একটি আদালত ওই কনটেন্টকে ‘অশ্লীল’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
এদিকে, গান প্রকাশ হওয়ার কিছুদিন পর পারাস্তু আহমাদি এবং তার কিছু সতীর্থকে ইরান প্রশাসন আটক করে। যদিও তারা পরে মুক্তি পেয়েছিল, তারপরেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। শাস্তির রায় অনুযায়ী, পারাস্তু আহমাদি ও তার দলের আট সদস্যকে ৭৪টি দোররা দেওয়া হবে। তার পাশাপাশি, পারাস্তু আহমাদি দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছেন কোম প্রদেশের আদালতে।
এ ব্যাপারে, দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খবরের সামনে আসার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, এটি কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়; বরং ভিন্নমত ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকে দমনের একটি উদাহরণ। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচক শিল্পীদের দিকে আক্রমণের চর্চা ইরানে দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে বলেও তারা জানান। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি এবং নির্বাসিত অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকি সহ আরও অনেকেই প্রতিবাদ করেছেন।
মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেন, এই রায়ের কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়ার কারণে শাস্তির বিধান নেই। তাই এইভাবে ‘অশ্লীল কনটেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া আইন এর অপব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেছেন, এমন শাস্তি একজন শিল্পীকে ৭৪ দোররা মারার সিদ্ধান্ত ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন