প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে। এটি বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম।
এ বাজেট বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মোট বাজেটের আকার ছিল ৬ হাজার ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটের আয়ের খাত তুলে ধরে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। তার বাহিরে প্রারম্ভিক স্থিতি ৬৬০ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে আয় ৯৬৫ কোটি টাকা, আবর্তক খাতে সাহায্য ও মঞ্জুরি ২১৫ কোটি এবং সরকারি উন্নয়ন অনুদান ধরা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা।
অপরদিকে ব্যয়ের খাতে রাজস্ব ব্যয় ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা এবং নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। এই পাশাপাশি, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পে ৯৬৫ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় ৮৩ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। বছর শেষে সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ৪২৭ কোটি টাকা।
ঢাকা শহরকে নতুনভাবে সাজানোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রশাসক এ কথা বলেন যে, এটি হচ্ছে একটি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ঘনবসতিপূর্ণ নগরী। পর্যাপ্ত রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, খাল ভরাট করে আবাসন গড়ে তোলার কারণে নানা নাগরিক সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের এসব পুঞ্জীভূত সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি নগরবাসীর ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, বাজেটে ঘাটতি থাকার পরেও সরকারের সহযোগিতায় রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিচ্ছন্নতা জোরদার, মশা নিধন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার মতো সেবামূলক কাজগুলো চালাতে সক্ষম হয়েছেন।
নতুন বাজেটের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল সংস্কার এবং খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নতুন বাজেটে প্রাধান্য পাবে।
‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ রূপরেখা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথমে এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে পরিষ্কার করা হবে এবং তারপর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রাকিবুল হাসানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন