প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন জাতীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার, ১ জুন, বিকেল ৪টায় শাহবাজপুর ইউনিয়নের প্রথম গেইট এলাকায় এ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রসঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন,
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুভি প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে। আমি সেখানে উপস্থিত থাকবো।
এছাড়াও, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন শুভও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানববন্ধন সম্পর্কে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেছেন। মানববন্ধনকে সফল করতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সংস্কৃতিপ্রেমী, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে ঘোষিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির বিরুদ্ধে কওমি ঐক্যপরিষদের নেতা নাসরুল্লাহ মুয়াজ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে এইচ এম সৈয়দ কাসেম এর শেয়ার করা একটি পোস্ট প্রকাশ করেছেন।
এই পোস্টে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার শেয়ার করা একটি পোস্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামবিরোধী অপসংস্কৃতির আগ্রাসন রুখে দিয়েছেন আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ জনতা। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে তারা তাদের ঈমানি দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে একটি মহল উসকানি দিয়ে এ জনপদকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। অহেতুক উসকানি বন্ধ করুন।’
৩০ মে রাতে কসবা উপজেলার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। তবে প্রদর্শনী শুরুর আগমুহূর্তে প্রশাসন ও পুলিশ এসে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ।
তিনি তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর শিক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে কসবার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।
কিন্তু অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির এবং কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।
এছাড়া, একই দিন বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনেমাটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে কওমি মাদরাসার কিছু শিক্ষার্থীদের বিরোধিতার কারণে আয়োজক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির ওই প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান স্থগিত করতে হয়।
প্রদর্শনী বন্ধের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবাদ জানাতে সরাইলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন