প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক। গত সপ্তাহেও প্রধান সূচক ও বাজার মূলধনের বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। তবে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক বিষয় হলো; দাম বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় অবশেষে ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রাধান্য বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই শঙ্কা প্রকাশ করে বাজার বিশ্লেষকরা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও তৎপর হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন।
ডিএসইতে দৈনিক লেনদেনের চাঙ্গাভাব এখনো বজায় রয়েছে। গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই লেনদেন ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর আগে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট, যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১০ কোটি টাকা।
প্রধান সূচক বৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসই-এক্স প্রায় ১০০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্টের পর এটিই সর্বোচ্চ সূচক। সূচক এবং দৈনিক লেনদেনে এই চাঙ্গাভাবের কারণে গত সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ৭ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। ২১টি খাতের মধ্যে ১৫টি খাতেই দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে। তবে ১৬টি খাতের দৈনিক গড় লেনদেন এখনও ১০০ কোটি টাকার নিচে রয়েছে।
গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বীমা খাতে, যার পরিমাণ দৈনিক গড়ে ১৯৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এরপর বস্ত্রখাতে ১৯৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, ফার্মাসিউটিক্যালস ও কেমিক্যাল খাতে ১৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, প্রকৌশল খাতে ১৩৪ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ব্যাংক খাতে ১২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।
পুঁজিবাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেছেন, ‘আমাদের নন-লাইফ বীমা শেয়ারগুলো বেড়ানোর অন্যতম কারণ হচ্ছে, মার্জিন ঋণ শিথিল করবে; এমন একটি গুঞ্জন বা আলোচনা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ৩২টি কোম্পানির একটি তালিকা রয়েছে, যেগুলো উৎপাদনে নেই, এবং যেগুলোর দাম বিভিন্ন গুজবের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ছে। তবে প্রকৃত সত্য সামনে আসলে, তখন এই দাম ধরে রাখার সুযোগ থাকবে কি না, সেটিই প্রশ্ন। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কোন দামে শেয়ার কিনবেন এবং কতটুকু বিশ্বাস করবেন, তা বিনিয়োগকারীদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে; কারণ কেউ কাউকে জোর করে শেয়ার কেনাচ্ছে না।’
এদিকে, সপ্তাহজুড়ে দাম বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় ভালো মানের প্রতিষ্ঠানগুলো আধিপত্য দেখিয়েছে। এতে ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান ৭টি, ‘বি’ ক্যাটাগরির ২টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১টি কোম্পানি রয়েছে। অন্যদিকে, দাম কমার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল বা ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো আধিপত্য দেখিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন