প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্বের অনেক দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ভাবনা বেড়ে গেছে, মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সচিব মোহসেন রেজাই।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্থিতিশীলতার একটি আবহ তৈরি হয়েছে।
এটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের মাধ্যমে রুশ বার্তা সংস্থা তাসের কাছে প্রকাশ হয়েছে।
রেজাই বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড অনেক দেশকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিষয়টি নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য করেছে।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্যপদ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) কোনো দেশের নিরাপত্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে রক্ষা করবে না- এমন ধারণা সৃষ্টি হওয়ার কারণে বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অবিবেচক কর্মকাণ্ডের প্রদর্শন করেছেন, তা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও উসকে দিয়েছে।”
রেজাই জানিয়েছেন, যদি কোনো দেশ আন্তর্জাতিক পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর অংশ হওয়ার পরও সামরিক হামলা থেকে নিরাপদ না থাকে, তাহলে অন্যান্য দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে উদ্যোগী হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন।
রেজাই বলেন, “আমেরিকানরা আলোচনা ও কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এমনকি ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেও তারা তা লঙ্ঘন করেছে।”
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে রেজাই জানিয়েছেন যে, ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের পরিবর্তন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের পর আমাদের কূটনৈতিক কৌশলে সংস্কার আনতে হবে।”
রেজাইয়ের বক্তব্যে বোঝে আসছে যে, তেহরান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আরও সতর্ক এবং কঠোর অবস্থান নিতে পারে। একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা কৌশল নতুন বাস্তবতার আলোকে পুনঃসংগঠনের প্রয়োজনও অনুভব করছে ইরান।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ চলমান। ইরান বরাবরই বলে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
এ হতাশার মাঝে, রেজাইয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে। তার বক্তব্য মূলত এই বার্তাকেই তুলে ধরছে যে, তেহরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ কেবল ইরানকেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন