প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ইতালির রাজধানী রোমে লেবানন ও ইসরাইল নতুন দফার আলোচনা করছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় থাকা এই দুই দেশ গত ২৬ জুন ওয়াশিংটনে পাঁচ দফা আলোচনার পর একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছায়।
চুক্তির লক্ষ্য ছিল ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং শান্তির পথ তৈরি করা। বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। চুক্তিতে সংগঠনটির নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ লেবাননের দুটি 'পাইলট অঞ্চল' থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের মাধ্যমে।
লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সোমবার জানায়, রোমে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী তাদের প্রতিনিধি দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগে কোনো আলোচনা শুরু করার আগে ইসরাইলি বাহিনীর অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে দুটি পাইলট অঞ্চল থেকে।
আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত এক লেবাননি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ‘ইসরাইলি বাহিনী যে এলাকা থেকে ধাপে ধাপে সরে যাবে, সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।’
তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) বিশ্লেষক অরনা মিজরাহি এএফপিকে বলেন, 'ইসরাইল ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারে প্রস্তুত,' তবে তার শর্ত হলো, 'যেসব এলাকা থেকে ইসরাইল সরে যাবে, সেখানে হিজবুল্লাহর কোনো উপস্থিতি থাকতে পারবে না।'
তিনি আরও বলেন, ইসরাইল আরও নিশ্চিত হতে চায় যে, লেবাননের সেনাবাহিনীর এমন সক্ষমতা থাকবে, যাতে ওই এলাকাগুলোকে নিরপেক্ষ অঞ্চল হিসেবে রাখা সম্ভব হয় এবং হিজবুল্লাহ সেখানে আবার ফিরে আসতে না পারে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক প্রতিনিধিদল বৈরুতে লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ওই দুটি পাইলট অঞ্চলের একটিতে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
সাফল্যের সম্ভাবনা সীমিত-
প্যারিসের সায়েন্সেস পো-র শিক্ষক করিম বিতার এএফপিকে বলেন, 'রোমের বৈঠকে বড় ধরণের অগ্রগতির সম্ভাবনা খুবই সীমিত।'
তিনি আরও বলেন, 'বরং এটা দেখানোর একটি সুযোগ হতে পারে যে, প্রক্রিয়াটি এখনও চলছে। বিরোধিতা ও নতুন নতুন বাধা সত্ত্বেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।'
১৭ জুন ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করতে তেহরান লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা তৃতীয় রাতে ইরানে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবার ইরানের বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহালেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
মিজরাহি বলেন, 'ইরান আঞ্চলিক যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার সঙ্গে লেবাননের বিষয়টিকে যুক্ত করতে চায়। কিন্তু আমরা এই দুই বিষয়কে আলাদা রাখতে চাই।'
তিনি বলেন, বর্তমানে তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক ইস্যু।
তার ভাষায়, 'লেবাননকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান। তারা সব সময়ই এটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করবে।'
২ মার্চ ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের সমর্থনে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হিজবুল্লাহ লেবাননকে এই আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে।
করিম বিতার বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে, লেবাননে আবার বড় ধরণের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি 'অবশ্যই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।'
তবে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, ইরান এখন হিজবুল্লাহকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালাতে বলার আগে দুবার ভাববে।'
তার মতে, তেহরান 'দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের একটি উপায় হিসেবে হিজবুল্লাহকে ধরে রাখতে চায়। তাই এখনই নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট খুলতে সংগঠনটিকে ব্যবহার করতে চায় না।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন