প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপান ও ফিলিপাইনে তাণ্ডব চালানোর পর এবার চীনের পূর্ব উপকূলে প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে প্রলয়ংকরী টাইফুন ডলফিন। উপকূল অতিক্রম করার পর ঝড়টি স্থলভাগের অভ্যন্তরের দিকে যত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, ততই ঘনিয়ে আসছে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা।
সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে টাইফুনটি দুর্বল হয়ে সাধারণ ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিবর্তিত হয়েছে। তবে এর জন্য দুর্যোগের শেষ হয়নি। সাংহাইয়ে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক বৃষ্টিপাত ইতোমধ্যে ১৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। এই কারণে ১৩০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া দপ্তর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছে যে, আগামী কয়েকদিন অবিরাম ভারী বর্ষণ চলতে পারে। এর ফলে আরো বড় বিপর্যয় হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উত্তর ও মধ্য চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তথা শানডং, হেনান ও সাংহাইজুড়ে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই সময় জনগণকে বাড়ির ভেতরে অথবা নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, কোথাও কোথাও ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, যা ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ১০ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করেছে।
ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলীয় শহর ওয়েনঝৌ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ৯ লাখেরও বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে এবং ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রেখেছে। পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ৯৮ হাজার ৯০০ জনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার পর সাংহাইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী মজুত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানান্তরিত মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হবে।
এর আগে টাইফুন ডলফিন জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে আঘাত হানায় ছয়জন আহত হয়েছেন। এর প্রভাবে ৫০ হাজারেরও বেশি ভবনের বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফিলিপাইনে টাইফুনটি দক্ষিণের স্থলভাগে আঘাত না করলেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। এর ফলে ম্যানিলার আশপাশসহ উত্তর লুজনের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বাগিও শহরে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে কিছু লোককে উদ্ধার করা হলেও, কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে আরও শক্তিশালী টাইফুনের পাশাপাশি চরম আবহাওয়ার শঙ্কা বেড়েছে। উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড়গুলোকে আরও শক্তিশালী করছে, যা এই ধরনের প্রলয়ংকরী দুর্যোগের ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন