প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি কোম্পানি ও তিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা বুধবার (২৬ আগস্ট) ওয়াশিংটনের চলমান অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে ইরানের বৈশ্বিক আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতের তিনটি প্রতিষ্ঠান একত্রে প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, সদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে। এসব চালানের মধ্যে কিছু চালান যুক্ত ছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বনজুর কমোডিটি এফজেডই।
এছাড়া, পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতীস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড— এই দুই প্রতিষ্ঠানও প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা চতুর্থ প্রতিষ্ঠান পোর্টিজ পার্টনার্স এলএলপি। ভারতভিত্তিক এই কাস্টমস ব্রোকার ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ভারতে আনার জন্য একাধিক চালান সহজতর করতে সহায়তা করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ।
কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি তিন ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— পিপি সফটটেকের পরিচালক প্রশান্ত গর্গ এবং পোর্টিজ পার্টনার্সের সঙ্গে যুক্ত ইন্দ্রিসমিয়া আশারাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রঙ্গি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট মন্তব্য করেছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরান সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করা হবে। ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সতর্ক করে আসছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় চীন ও হংকংভিত্তিক প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান এবং চীনের চার নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মোট ৬০ জন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্য করেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন।
ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ জানিয়েছেন, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলার জন্য তার দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি জানান, এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের দুই বছরের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ মার্কিন হুমকিকে গুরুত্ব দেননি। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এসব হুমকিকে গুরুত্বহীন মনে করছে। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর মাধ্যমে ইরানকে ঘিরে সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা ব্যবসায়ীদের আশঙ্কার তুলনায় কিছুটা কম কঠোর হওয়ায় তেলের বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়নি।
অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘অস্থায়ী যৌথ নৌপথ’ চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ থেকে মাইন সরানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন যে, ইরান যদি ফের সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা হলে তেলের দাম আবারও দ্রুত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন