প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ান অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেছেন, সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদার, দস্যু দমন, মানবপাচার রোধ এবং উপকূলীয় জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বাগেরহাটের চিলা ইউনিয়নের জয়মনির ঘোল এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।
মো. জিয়াউল হক আরও উল্লেখ করেন, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং জেলে ও উপকূলীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
তিনি বলেন যে, বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সম্পূর্ণরূপে বনদস্যুতা দমনে বর্তমান সরকারের দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুইটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দস্যু চক্রগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘ছোট সুমন’ ও তার সহযোগীরা সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাড়বাড়ীয়া স্থাপনের ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাঘাত সাধিত হয়েছে এবং সুন্দরবনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি লাভ হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাড়বাড়ীয়ায় একটি দল দুর্বৃত্তের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত একটি বাহিনীর স্থাপনায় হামলা কেবল সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা বলে প্রতীয়মান।
জিয়াউল হক উল্লেখ করেছেন, উক্ত ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি যোগ করেন যে, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার জনগণের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখুন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে যে কোনো অপরাধমূলক তথ্য কোস্ট গার্ড জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ অবহিত করার মাধ্যমে অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের জনগণের নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ, উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন