প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান শুরুর আশঙ্কায়, বর্তমানে শত শত মানুষ বাংলাদেশ সীমান্তে এসে জড়ো হয়েছেন।
হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষ অনিশ্চিত অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। ভারত সরকার তাদের যে কোন সময় গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) পাঠিয়ে দিতে পারে। নিজেদের সুরক্ষার জন্য, অনেকেই সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এ কারণে, দেশের সমস্ত সীমান্ত এলাকায় বিজিবিকে সর্তক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, 'আমরা সীমান্তে সব ধরনের অবৈধ পুশইন ও পুশব্যাকের বিপক্ষে। আমরা এগুলো শুনতে পাচ্ছি। বর্ডারে আমাদের বিজিবি অ্যালার্ট আছে। আমরা যে কোন রকমের ইলিগাল পুশইন বা পুশব্যাকের বিপক্ষে। যদি বাংলাদেশের কোন সিটিজেন কোন কারণে সেই দেশে গিয়ে থাকে, তাদের যদি ন্যাশনাল আইডি ভেরিফিকেশন করা হয়, আমরা এটাকে বলি ন্যাশনাল আইডি ভেরিফিকেশন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন তালিকা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলে, তারা আইনানুগভাবে রিপ্যাট্রিয়েশন প্রসেসটাও ফলো করবে। আমাদের কাছে সেরকম কোন বিষয় এখনো পেন্ডিং নেই।'
সূত্র অনুযায়ী, যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০-১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা ও বাধার কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনার ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সোমবার (১ জুন) ভোর রাতে সাদিপুর সীমান্তে খড়েরমাঠ এলাকা দিয়ে এই পুশইনের চেষ্টা হয়।
বিজিবির সূত্র জানাচ্ছে, সোমবার ভোর রাতে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দিয়ে কিছু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এ সময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা পুশইনে কঠোর বাধা সৃষ্টি করেন। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে ওই নারী, পুরুষ ও শিশুরা রাত থেকে সীমান্তের জিরো লাইনে (ভারতীয় অংশে) আটকা পড়ে রয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, বেনাপোল সাদিপুর সীমান্তের খড়েরমাঠ এলাকার ২১/৬ নম্বর পিলারের কাছে ভারতীয় বিএসএফ বেশ কিছু নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তের জিরো লাইন এলাকায় শক্ত অবস্থান নেন এবং বিএসএফের ওই অবৈধ চেষ্টা রুখে দেন। বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, জিরো লাইনে আটকে পড়া নাগরিকদের বিষয়ে সুরাহা করতে সোমবার দুপুরে দু-দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একটি পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ভারতের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা সম্ভব—এমন খবর হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার পরে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে শত শত দিশেহারা মানুষ দল বেঁধে সীমান্ত এলাকায় এসে জড়ো হতে শুরু করেন। ভারত অবস্থানরত হাসিনা বিবি জানান, 'আমাদের দ্রুত ভারত ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে, অন্যথায় সরকার আমাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। কেবল জীবিকার জন্য আমি এই শহরে এসেছিলাম, এখন বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু জানি না সীমান্তে বা ওপারে আমার ভাগ্যে আসলে কী অপেক্ষা করছে।' বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের বেশ কিছু দুর্গম স্থান এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে। মূলত চরম অর্থনৈতিক সংকট, কর্মসংস্থান এবং সীমান্তের ওপারে পরিবারের সম্পর্কের কারণে বহু মানুষ ভারতে প্রবেশ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন