প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সারাদেশে বজ্রপাতে তিন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীসহ ১১ জন মারা গেছে। মৃতের মধ্যে সাভার থেকে তিনজন, মানিকগঞ্জে দুইজন, নরসিংদীতে তিনজন, নেত্রকোনা, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জে একজন করে মৃত্যুবরণ করেছে। মারা যাদের মধ্যে পাঁচজন কৃষক।
রোববার (২১ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা রাতের মধ্যে তীব্র ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের এই ঘটনাগুলি ঘটে।
এসংক্রান্ত খবর সারাদেশ থেকে আরটিভি প্রতিনিধিরা পাঠিয়েছেন।
সাভার
সাভারে সবজি ক্ষেতের কাজ করার সময় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে বনগাঁ ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইমরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম কুটি ব্যাপারী (৭০)। অপর দুজনের নামে পরিচয় অর্জন করা যায়নি।
বনগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য কামরুন্নাহার জানিয়েছেন, কুটি ব্যাপারী দুই কৃষককে নিয়ে সবজি তুলছিলেন। বিকালের সময় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে তিনজনই প্রাণ হারান।
জামালপুর
জামালপুরের মাদারগঞ্জে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে মুসা ফকির (৬০) নামের একজন বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের উত্তর চর বওলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
মুসা ফকির মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান মুসা ফকির। ঘাস কাটার সময়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এক পর্যায়ে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই বজ্রপাতে আহত মুসা ফকিরের মৃত্যু হয়েছে। তাই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নরসিংদী
নরসিংদীর মনোহরদীতে অজু করার সময়ে বজ্রপাতে তিন মাদ্রাসাছাত্র নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও একজন ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার মাগরিবের নামাজের সময় উপজেলার পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে।
বজ্রপাতে মারা যাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে। তারা সবাই ওই মাদ্রাসায় থেকেই লেখাপড়া করছিলেন।
শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোসতানশির বিল্লাহ জানান, হাসপাতালে আনা চারজনের মধ্যে তিনজন মৃত অবস্থায় ছিল এবং একজনের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
নেত্রকোণা
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বড়গাও গ্রামের মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামের একজন যুবক বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন। দুপুর আড়াইটার সময় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলমের বাবা মৃত আব্দুর রাশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বৃষ্টির সময় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী রেনু বেগম বলেন, ‘আমি মাঠে গরু আনতে গিয়ে দেখলাম জাহাঙ্গীর আলম মাটিতে পড়ে আছেন। ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনলাম। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, চিকিৎসক সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে মারা যাওয়ার ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ
সন্ধ্যা ৭টার সময় নিকলী উপজেলায় হাওরে বজ্রপাতে এক নৌকার মাঝির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম বাবুল সরকার (৪৫)। সদর ইউনিয়নের উলাবাইরা চর হাওর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
নিহত বাবুল সরকার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার নারাজ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একটি স্টিলবডি নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্র এবং উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাবুলসহ কয়েকজন যাত্রী স্টিলবডি নৌকাযোগে আশুগঞ্জ থেকে ধান বিক্রি করে নিজের এলাকায় ফিরছিলেন। তাদের পথে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে নৌকায় থাকা অন্যান্য যাত্রীরা নৌকার পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেন। তবে নৌকা চালানোর দায়িত্বে থাকায় বাবুল সরকার নৌকার উপরে অবস্থান করছিলেন।
একপর্যায়ে বজ্রপাতের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরপর নৌকার গতিবিধি অস্বাভাবিক হয়ে অন্য যাত্রীরা ওপরে উঠে বাবুলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে নিশ্চিত করা যায় যে তিনি মারা গেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজের ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)। তারা দুজনেই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দিন বিকেলে কবির ও শহিদুল মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় আবহাওয়া খারাপ হওয়ার সাথে বজ্র সহ বৃষ্টি শুরু হয়। মাঠে কাজ করার সময়ে আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত জামাল ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে। সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন