প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক (পোর্ট অ্যাক্সেস রোড) নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলন ও বিক্রির নামে শত শত কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহানা শারমিন দায়ের করা এ রিটে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূল থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং বালুর মূল্য নির্ধারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাবে প্রতি ঘনফুট বালুর ভিত্তিমূল্য ৬ টাকা ৯৪ পয়সা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং ব্যয় বাবদ ৪ টাকা ৫৭ পয়সা কর্তনের মাধ্যমে কার্যত প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ২ টাকা ৩৭ পয়সা নির্ধারণ করেছে। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএল-জেভি বিশেষ সুবিধা পেয়েছে এবং রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন “বালুতেই ঠিকাদারের পকেটে যাবে ৪৫০ কোটি টাকা” শিরোনামে দাবি করা হয়, মাতারবাড়ি পোর্ট অ্যাক্সেস রোড প্রকল্পে ব্যবহৃত বালু সরবরাহকে কেন্দ্র করে সরকারের প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব সুবিধা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলনের রয়্যালটি প্রতি ঘনফুট ৬ টাকা ৯৪ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও ড্রেজিং ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে বহন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে সরকারি রাজস্ব হিসাবে জমা হবে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা।
রিটে আরও বলা হয়, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো ঠিকাদার নিজস্ব ব্যয়ে ড্রেজিং, বালু উত্তোলন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে। সরকার চুক্তি অনুযায়ী কাজের বিল পরিশোধ করে। কিন্তু বর্তমান ক্ষেত্রে বালুর মূল্য থেকেই ড্রেজিং ব্যয় সমন্বয় করে রাষ্ট্রীয় আয় কমিয়ে দেয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থ ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বালু বিক্রি ও ইজারা দেয়ার বিধান রয়েছে। অথচ কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলন, ভরাট ও ব্যবহার সংক্রান্ত সুবিধা দেয়া হয়েছে। এতে আইনের বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বালুর প্রয়োজনীয়তা কয়েকগুণ বেশি হলেও প্রাথমিকভাবে মাত্র ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালুর অনুমোদন নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে একই পদ্ধতিতে আরও বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জনস্বার্থে দায়ের করা রিটে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন, মূল্য নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনা এবং একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের অভিযোগেরও বিচারিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আইনজীবী সোহানা শারমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই এ রিট দায়ের করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন