প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের (ফ্লোটিলা)- সদস্য ও ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে ইসরায়েলি বন্দিশালায় থাকাকালীন যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন ভয়াবহ তথ্য, যা একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
লিডকে বলেছেন, বেআইনিভাবে তৃতীয় দফায় দেহ তল্লাশির সময় কারারক্ষীরা তাকে জোরপূর্বক হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে। এর পর তার মুখ চেপে ধরলে তিনি চিৎকার করতে থাকেন এবং পরে ধর্ষণের শিকার হন।
মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। লিডকের বক্তব্য, নির্যাতনের সময় তিনি পুরুষ কারারক্ষীদের হাসির শব্দ শুনেছেন, যা তার ধারণা অনুযায়ী, তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং সেটি সম্ভবত ভিডিও রেকর্ড করছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল পার্টিশনিংয়ের মাধ্যমে আলাদা করা থাকলেও তা সম্পূর্ণ শুরুর অবস্থায় রাখা হয়েছিল।
২৫ বছর বয়সী লিডকে গত শরতে ইউরোপ থেকে গাজাগামী নৌবহরে যোগদান করেন। ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নৌযান আটক করে এবং তাকে পাঁচ দিন ধরে আটক রাখা হয়।
লিডকের ভাষ্যমতে, ফ্লোটিলার কর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতার উদ্দেশ্য ছিল তাদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা। গার্ডিয়ানের কাছে তিনি বলেছেন, ‘এটি স্পষ্ট যে তারা আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে চায় এবং আমাদের চুপ করাতে চায়। তারা আমাদের এমন এক ট্রমার মধ্যে ফেলতে চায়, যাতে আমরা আর কখনো ফিলিস্তিন নিয়ে কথা না বলি।’
নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটার পর কয়েক দিনের মধ্যে তিনি বিষয়টি বন্ধু ও চিকিৎসকদের জানান। লিডকে গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন, যা ছিল প্রথম ফ্লোটিলা কর্মীর অভিযোগ। পরে আরও এক ডজনের বেশি কর্মী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে, তবে অধিকাংশই তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
লিডকের আইনজীবীরা অভিযোগের তদন্তের আবেদন জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছেন। ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, সম্মতি ছাড়া যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়নকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর লিডকে বলেছেন, ‘আমার লজ্জা পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা যদি চুপ থাকি, তাহলে তারা অন্য কারোর সঙ্গেও একই কাজ করবে।’
অভিযোগপত্রটি ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল, দেশের কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে। আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ জানান, এ উদ্যোগের লক্ষ্য ইসরায়েলে বন্দি নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’কে চ্যালেঞ্জ করা।
ইসরায়েলে কর্মরত ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ-এর আইনজীবী হাদ্দাদ বলেন, অ্যানা লিডকে ন্যায়বিচার চান এবং দায়ীদের জবাবদিহি করার সব ধরনের আইনি পথ ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তারা তদন্তের দাবিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
হাদ্দাদ দাবি করেন, গত প্রায় তিন বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো অপরাধের অভিযোগ উঠছে এবং এখন এর বিস্তার আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশকারী বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও একই আচরণ করা হচ্ছে।
লিডকে বলেন, ‘আমি মনে করি না, শুধু মুখ খুললেই কারাগারে ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু একজন রাজনৈতিকভাবে সচেতন নারী হিসেবে এ বিষয়ে কথা বলা আমার দায়িত্ব। আমি এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, ফিলিস্তিনি বন্দিরা যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, আমার ওপর হওয়া নির্যাতন তার চেয়ে অনেক কম।’
তিনি জানান, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ইতালি থেকে প্রায় ১০০ কর্মীর সঙ্গে বড় একটি ফেরিতে যাত্রা শুরুর আগে আগের ফ্লোটিলা সদস্যদের কাছ থেকে তিনিও ইসরায়েলি হেফাজতে সম্ভাব্য সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে চাইলেও তিনি জানেন, এমন অভিজ্ঞতার জন্য আগে থেকে প্রস্তুত হওয়া প্রায় অসম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন