প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের একটি সংশোধনী প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নজিরবিহীন সমর্থন দেখা গেছে।
সর্বশেষ ভোটাভুটিতে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) ২১২ জন ডেমোক্র্যাট সদস্যের মধ্যে ১০৩ জন এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। যদিও সংশোধনীটি শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি, তবুও এত বড় সংখ্যক ডেমোক্র্যাটের সমর্থনকে দলের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সংশোধনীর লক্ষ্য ছিল গাজায় চলমান গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অর্থায়ন বন্ধ করা। তবে রিপাবলিকানদের বিরোধিতার কারণে এবং অধিকাংশ সদস্যের ভোটের ফলে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর এই ভোটকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, ‘রেকর্ড সংখ্যক ডেমোক্র্যাট’ এই সংশোধনীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তার ভাষায়, ‘এটা সম্ভব হয়েছে কারণ লাখো মানুষ সোচ্চার হয়েছে, সংগঠিত হয়েছে এবং নীরব থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আমাদের আন্দোলন পরিবর্তন আনছে। সংগঠিত থাকুন, শক্তি গড়ে তুলুন।’
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান সামার লি বলেন, এই ভোট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থানে একটি পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। তবে তিনি বলেন, ‘তারপরও কংগ্রেসের কোনো সদস্যের পক্ষে ইসরাইলের গণহত্যাকে জ্বালানি জোগাতে সহায়তা পাঠানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া বিবেকবর্জিত।’
উল্লেখ্য, ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না বলেন, দুই বছর আগে একই অবস্থান নেওয়ার কারণে সাবেক কংগ্রেস সদস্য জামাল বোম্যান ও কোরি বুশ রাজনৈতিক মূল্য দিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের আসন হারান।
তিনি বলেন, ‘তাদের সাহসকে স্বীকৃতি জানানো উচিত।’ এক সহকর্মীর মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের আত্মত্যাগকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়।’
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও সংশোধনীটি পাস হয়নি, তবুও ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রায় অর্ধেকের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতি নিয়ে দলটির ভেতরে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের কারণে মানবাধিকার, বেসামরিক হতাহত এবং সামরিক সহায়তার জবাবদিহি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশ আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।
এদিকে রিপাবলিকানদের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ এখনও ইসরাইলের জন্য সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও কংগ্রেসে এ নিয়ে বিতর্ক ও বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন