প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন তার গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারার পর গাজী নজরুল তাকে প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আরো জানান, তার সঙ্গে থাকা পাঁচ বছর জীবনের পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) একটি সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় তুলে ধরেন ওবায়দুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনটি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে দুপুর ১২টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওবায়দুর রহমান গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী এবং গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি, গাজী নজরুল ইসলামের একটি 'ব্যক্তিগত মুহূর্তের' ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, গাজী নজরুলের সঙ্গে এক তরুণী ছিলেন। গাজী নজরুল দাবী করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তরুণীর আত্মীয় ওবায়দুর রহমান।
এই সময় গাজী নজরুল অভিযোগ করেন, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাকে জিম্মি করে ওবায়দুর রহমান ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ভিডিওটিও ওবায়দুর ফাঁস করেছেন।
ওবায়দুর রহমান বলেন, তিনি গাজী নজরুলের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করেন। তখন গাজী নজরুল প্রথমে তাকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে, ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজের পাশাপাশি গাড়িচালক হিসেবে কাজের প্রস্তাবও দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও তরুণীর নিরাপত্তা এবং অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি গাড়িচালকের কাজ গ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর জানান, গত ৬ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে গাজী নজরুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ১৮ জুন তিনি প্রথম তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। ২০ জুন তরুণীকে নিয়ে তিনি এমপি হোস্টেলে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তখন গাজী নজরুলও সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন।
ওবায়দুরের দাবী, ওই সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে তাকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়। উল্লেখ্য, তিনি কোনো প্রকার টাকা গ্রহণ করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, গত ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপে এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তার কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে ওই রাতেই তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, গাজী নজরুলের কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের একজনের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় দিবাগত রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
এরপর ২১ জুলাই পল্লবী থানায় নামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এবং আরও কিছু অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তরিত হয়। কিছু আসামী গ্রেপ্তার হলেও আদালত তাদের জামিন দেয়।
এরপর ২ আগস্ট তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। এই মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
ওবায়দুর রহমান বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার মা ও পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। ওবায়দুর এসব ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন