প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৯ মাস ধরে আটকে রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)-এর গণিত বিভাগের তিন শিক্ষার্থীর মাস্টার্সের ফল। একই বর্ষের অন্য শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই বছর আগে মাস্টার্স শেষ করেছেন কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ওই তিন শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ হচ্ছে না। ফলে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের নন-থিসিস শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু একই বর্ষের থিসিস গ্রুপের তিন শিক্ষার্থী এইচ এম আরাফাত, আফিদা সুলতানা ও সুইটির ফল এখনো আটকে রয়েছে। তাদের সমস্ত একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) থামিয়ে রাখা হয়েছে, এজন্য ফল বের করা যায়নি।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে সুইটি মাস্টার্স করতে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সশরীরে ভাইভা দেওয়া অপরিহার্য। অন্যদিকে, একজনকে বাদ দিয়ে অন্যদের ভাইভা নেওয়ার নিয়ম নেই বলে প্রশাসন জানিয়েছে। এ কারণে সুইটি অনুপস্থিত থাকায় অন্য দুই শিক্ষার্থীর ভাইভা সম্পন্ন হয়নি।
এছাড়াও, বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ২০১৭-১৮ ব্যাচের ফল প্রকাশ না হওয়ায় ওই ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমও আটকে আছে। ফল আটকে থাকা শিক্ষার্থী এইচ এম আরাফাত মন্তব্য করেছেন, 'বিভাগে সেশনজটের কারণে আমাদের অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগেছে। অন্যরা প্রায় দুই বছর আগে মাস্টার্স শেষ করলেও আমরা এখনো রেজাল্ট পাচ্ছি না।' তিনি আরো বলেন, 'একজন শিক্ষার্থী বিদেশে মাস্টার্স করছে। তার ফল না হলেও চলে, কিন্তু আমাদের তো প্রয়োজন। আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে। একজনের কারণে আমরা আটকে থাকবো এমন নিয়ম হতে পারে না।'
আরাফাত আরও বলেন, 'অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভাইভা নিলেও আমাদের পুরনো নিয়মে আটকে রাখা হচ্ছে। মাস্টার্স ছাড়া আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারছি না, চাকরির জন্যও আবেদন করতে পারছি না। একজন শিক্ষার্থীর কারণে আমাদের এমন ভোগান্তিতে ফেলতে পারে না প্রশাসন।'
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সজীব আলী জানিয়েছেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করেছি এবং প্রশাসনকেও জানিয়েছি। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সশরীরে ভাইভা দিতে হবে। একজন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে প্রশাসন।'
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, 'বিভাগ থেকেই ফাইল পাঠাতে দেরি করেছে। তবে বিষয়টি উপাচার্যকে জানানো হয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত জানাবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন