প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভালোবেসে অন্য জাতির ছেলেকে বিয়ে এবং পালিয়ে যাওয়ার কারণে এক তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে। এই তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং তারপর তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলেছে তার মা এবং ভাই। ভারতের বিহারের মুজাফফরপুর জেলায় দুই পরিবারের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত তরুণীর নাম সুজাতা কুমারী, যার বয়স ১৯ বছর।
এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে ২০২০ সালে। মুজাফফরপুরের ঘনসাউত গ্রামের গৌরী শঙ্কর কুমার, যিনি ২২ বছর বয়সী, সুজাতার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। দীর্ঘ ৬ বছরের প্রেমের পর, তারা ১৮ জানুয়ারি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর তারা হরিয়ানায় নতুন জীবন শুরু করেন। কিন্তু সুজাতার পরিবার থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করে। পুলিশ ১১ ফেব্রুয়ারি দুজনকে আটক করে মুজাফফরপুরে ফেরত আনে। আদালতে সুজাতা জানিয়ে ছিল যে তিনি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন, তবুও পুলিশ গৌরী শঙ্করকে জেলে পাঠিয়ে দেয়। পরে পুলিশ সুজাতাকে তার এক খালার জিম্মায় রাখে।
এরপর পরিবারের মধ্যে খুনের পরিকল্পনা শুরু হয়। মার্চ মাসে হোলির উৎসবের দিন, সুজাতার মা কৌশলে তাকে খালাবাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিছুদিন পর, ৩১ মার্চ গৌরী শঙ্কর জেল থেকে মুক্তি পান। সেদিনই সুজাতার সঙ্গে তার শেষবার ফোনে কথা হয়। এরপর থেকেই সুজাতা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, গৌরী শঙ্কর স্ত্রীর খোঁজ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, সুজাতার পরিবার তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলেছে। তিনি জানান যে পুলিশ যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বিষয়টি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ তৎপর হয়। ডিএসপির নির্দেশে পুলিশ দ্রুত সুজাতার ভাই অভিষেক কুমারকে আটক করে। পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে, একপর্যায়ে অভিষেক নিজের বোনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, অন্য জাতির ছেলের সঙ্গে বোনের পালিয়ে বিয়ে করাটা তিনি কোনোভাবে মেনে নিতে পারেননি। অভিষেক কুমার জানান, তার মা সুজাতাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর অভিষেক ও তার কয়েকজন আত্মীয় মিলে সুজাতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তারপর রাতেই তাড়াহুড়ো করে সুজাতার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয় যেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং সমস্ত প্রমাণ মুছে ফেলতে পারে।
এই ঘটনায় পুলিশ মা ও ভাইসহ বাকি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান আরও জোরদার করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন