ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

কলকাতায় বুলডোজার ব্যবহার করে মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা


কলকাতায় বুলডোজার ব্যবহার করে মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা

কলকাতা শহরে শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনো রকমের বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশ কড়া বার্তা দিয়েছে। বুধবার (৬ মে) একটি সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার পুলিশ সুপার অজয় নন্দা বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলে পুলিশ কাউকে ছাড় দেবে না। বিশেষ করে, বুলডোজার নিয়ে মিছিল বা তাণ্ডব চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা তিনি করেছেন।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শহরজুড়ে ৬৫ কম্পানি বাহিনী এবং ২৪০টি কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সমস্যায় সাধারণ জনগণের কাছে সরাসরি পুলিশ যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'ভোটের পর অনেক ফোন আমরা পেয়েছি।' সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ করেছেন, যেন তারা কোনো ধরনের গুজবে কান না দেন। এর পাশাপাশি, লালবাজারে আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলার কথাও জানিয়েছেন।

বিজয় মিছিল বা যেকোনো শোভাযাত্রার ক্ষেত্রে পুলিশের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া মিছিল হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে 'বুলডোজার' নিয়ে কোনো মিছিল করা যাবে না, এ বিষয়ে পুলিশ সাফ জানিয়েছেন। অজয় নন্দা বলেন, 'বুলডোজার নিয়ে মিছিল করলে শুধু আয়োজকের বিরুদ্ধে নয়, পাশাপাশি মেশিনের মালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেটি বাজেয়াপ্ত করা হবে।'

আরও পড়ুন: তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ দলে চমক, ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে কানাডাপ্রবাসী এলুমি

মঙ্গলবার (৫ মে) নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে দোকান ভাঙা ও তাণ্ডব চালানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার স্পষ্ট বলেন, কর্তব্যে গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শহরে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে ইতিমধ্যে ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের স্পেশাল ড্রাইভ বা বিশেষ অভিযান চলছে। লালবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র: এই সময়

আরও পড়ুন: খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা : ত্রাণমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাম বাড়ায় নতুন দরে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ-রুপা, ভরি কত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


দাম বাড়ায় নতুন দরে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ-রুপা, ভরি কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ানোর সর্বশেষ সমন্বয়ের পর নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে। আজ (বুধবার, ৬ মে) থেকে এই মূল্যবান ধাতুগুলি বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার সকালে ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ফাইল ছবির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তথ্য।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণ ও রুপার দাম বৃদ্ধি করেছে। স্বর্ণ ও রুপার ভরিতে যথাক্রমে ২ হাজার ১৫৮ টাকা ও ১৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে সতেজ স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য বেড়েছে। এই অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়ে রয়েছে।

দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এছাড়া, গত ৫ মে স্বর্ণের দাম পর্যালোচনা করে বাজুস সেই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা ছিল। সেই সময়ও দাম কার্যকর ছিল সকাল ১০টায়।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ দফা কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২৯ বার কমেছে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বেচা হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৪১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৭ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এখানে ২০ দফা দাম বেড়েছে এবং ১৭ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় হয়েছে, এর মধ্যে ১০ বার বেড়েছে এবং ৩ বার কমেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুদ্র নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে কোস্টগার্ড পাচ্ছে নতুন নজরদারি হেলিকপ্টার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ পি.এম


সমুদ্র নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে কোস্টগার্ড পাচ্ছে নতুন নজরদারি হেলিকপ্টার

ঢাকা, ০৬ মে, ২০২৬ : সরকারের উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে আকাশপথের জন্য অত্যাধুনিক নজরদারি হেলিকপ্টার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার আধুনিক জাহাজ, ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা এবং জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে কোস্ট গার্ডকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্র এলাকায় দ্রুত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার জন্য এসব হেলিকপ্টার ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, হেলিকপ্টার যুক্ত হলে মাদক পাচার, মানব পাচার, অবৈধ মৎস্য আহরণ এবং জলদস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যে উন্নত সেন্সর, রাডার সিস্টেম এবং রিয়েল-টাইম ডাটা ট্রান্সমিশন প্রযুক্তি থাকবে। এই প্রযুক্তি দ্বারা সন্দেহভাজন নৌযানকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং টহল জাহাজ ও উপকূলীয় ইউনিটগুলোকে তাৎক্ষণিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানোর কাজ সহজ হবে। এর ফলে সমুদ্র অভিযানের গতি ও নির্ভুলতা উভয়ই বাড়াতে সক্ষম হবে এসব হেলিকপ্টার।

একইসঙ্গে একটি সমন্বিত ‘মেরিটাইম সার্ভেইলেন্স সিস্টেম’ বা সমুদ্র নজরদারি ব্যবস্থা তৈরির কাজও চলছে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে উপকূলীয় জলসীমা, প্রধান জাহাজ চলাচল পথ এবং সমুদ্রবন্দরগুলোতে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নজরদারি করা সম্ভব হবে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, রাডার স্টেশন, ড্রোন এবং আকাশপথের নজরদারি ব্যবস্থাকে একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোর আওতায় এনে একটি সমন্বিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডে ইতোমধ্যে ড্রোন প্রযুক্তি, অফশোর টহল জাহাজ, ফাস্ট পেট্রোল ক্রাফট এবং উচ্চগতির বোট যুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হেলিকপ্টার ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে একটি আধুনিক ‘মেরিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস’ বা সমুদ্রসীমার ওপর সার্বিক নজরদারি কাঠামো গড়ে তোলা সহজ হবে।

এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কার্যক্ষমতা একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক মানে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর জুড়ে অপরাধ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

বর্তমান সরকার বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সার্বিক উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাহিনীটির বহরে একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনসহ তিনটি নজরদারি ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা’র অর্থায়নে একটি মাল্টি-রোল রেসপন্স ভেসেল এবং দুটি অফশোর পেট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

এছাড়া, বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে বুলেটপ্রুফ হাই-স্পিড বোট কেনার লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব বোট বহরে যুক্ত হলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

কোস্টগার্ডের জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি আধুনিক ডকইয়ার্ড স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৯টি পুরনো জাহাজের পরিবর্তে দেশীয় শিপইয়ার্ডে নির্মিত ৯টি নতুন টহল জাহাজ যুক্ত করার একটি প্রকল্পও চলমান রয়েছে।

বাহিনীর জনবল বাড়িয়ে প্রায় ১০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এসব আধুনিক জাহাজ ও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত হলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কার্যক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর বিকল্প নয়, প্রতিযোগিতার পূর্বশর্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

০২:৩৭ পি.এম


সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর বিকল্প নয়, প্রতিযোগিতার পূর্বশর্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন আর কেবল পরিবেশগত কোনো আলোচনার বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অন্যতম নির্ধারক। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী, যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিচয় বহন করে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশে SWITCH2CE পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত প্রধান মাইকেল মিলার এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘SWITCH to Circular Economy’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো কল্পনাপ্রসূত ধারণা নয়; এটি বাস্তবসম্মত, অর্জনযোগ্য এবং এর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

এদিকে তিনি জানিয়েছেন, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ ও বেস্টসেলারের সহযোগিতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা এবং ভ্যালু চেইন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। সেগুলো বাংলাদেশের শিল্পখাতকে একটি কাঠামোগত ও সামগ্রিক সার্কুলার রূপান্তরের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা, বর্জ্য হ্রাস, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা জোরদার, উদ্ভাবন ও মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত অত্যন্ত সম্পদনির্ভর হওয়ায় পুনর্ব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের ভিত্তিতে একটি টেকসই উৎপাদনব্যবস্থায় রূপান্তর পরিবেশগত চাপ কমাতে এবং টেকসই শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী বলেন, সার্কুলার রূপান্তর তখনই সফল হবে যখন সরকার, শিল্পখাত, বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং উন্নয়ন সহযোগীরা সমন্বিতভাবে কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, পাইলট কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় কৌশল প্রণয়নের চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, টেকসই বিনিয়োগকে সহায়তা দেওয়া এবং অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এক পর্যায়ে বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ নতুন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। আমরা স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা এবং এলডিসিভিত্তিক অনেক বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার হারাবো। তাই এখন থেকেই আমাদের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক কস্ট টু জিডিপি রেশিও প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যয় কমাতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যেই একটি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব একটি ড্যানিশ কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষ প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন অনুমোদন ও লাইসেন্সের জন্য বহু প্রতিষ্ঠানের দ্বারে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও জটিল। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের পরই অস্থায়ী অনুমোদন পাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্থায়ী অনুমোদন ও লাইসেন্স সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। আমরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে সত্যিকারের ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে পরিণত করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের আর এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের উৎপাদিত প্রতিটি পণ্য— তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য কিংবা পাটজাত পণ্য—সবকিছুকেই টেকসই হতে হবে। বিশ্বের মানুষের মধ্যে এই উপলব্ধিও রয়েছে যে বর্তমান কার্বন ও দূষণ সংকটের জন্য প্রধানত দায়ী উন্নত অর্থনীতিগুলো। তাই একটি টেকসই বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে উন্নত দেশগুলোকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালীতে ফরাসি জাহাজে আক্রমণ, আহত বেশ কয়েকজন নাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ পি.এম


হরমুজ প্রণালীতে ফরাসি জাহাজে আক্রমণ, আহত বেশ কয়েকজন নাবিক

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি ফরাসি মালবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নাবিক আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট শিপিং সংস্থা।

ফরাসি প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএম বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ‘সিএমএ সান আন্তোনিও’ নামক জাহাজটি মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তুর আঘাতের শিকার হয়।

হামলায় আহত নাবিকদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং আক্রান্ত ক্রু সদস্যদের পাশে সব ধরনের সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা তদারকি করা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, মঙ্গলবার অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল দ্বারা একটি মালবাহী জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর তারা পেয়েছে, যদিও প্রাথমিকভাবে তারা জাহাজটির নাম প্রকাশ করেনি।

হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় এই হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%