প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোরের গুরুদাসপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম থামছে না, যা আইন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী। পৌর সদর এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ইটভাটাগুলো যত্রতত্র গড়ে উঠেছে। এর ফলে স্থানীয় জনজীবন, কৃষিজমি, পরিবেশ এবং পাকা সড়ক মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। প্রশাসন বিভিন্ন সময় অভিযান ও জরিমানা করলেও অবৈধ ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিয়মের তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর চিমনির উচ্চতা কম হওয়ার কারণে নির্গত কালো ধোঁয়ায় চারপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এর ফলে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী এবং ঘনবসতি এলাকার মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। আইন অনুযায়ী তিন ফসলি জমি, বনভূমি ও আবাসিক এলাকার কাছে ভাটা স্থাপন এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কিন্তু এখানে প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ফসলি জমি কেটে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে ভাটায় এবং পোড়ানো হচ্ছে কাঠখড়ি। ইট ও মাটি বহনকারী ভারী ট্রাক্টর-ট্রলির দাপটে গ্রামীণ পাকা সড়ক নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত বছর ফসলি জমি হ্রাসের কারণে এ এলাকায় ধানের আবাদ কমেছে প্রায় ১০০ টন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র দুটির লাইসেন্স রয়েছে। পৌর এলাকার পাঁচটি অবৈধ ভাটা হলো—মেসার্স এমবিপি ব্রিক্স, মেসার্স একেবি ব্রিক্স, মেসার্স এমডিআর ব্রিক্স, মেসার্স এমডিএস ব্রিক্স এবং মেসার্স এএমবি ব্রিক্স। এছাড়া সাহাপুর, হাজীর হাট ও চন্দ্রপুর এলাকায় রয়েছে মেসার্স এইচবিবি ব্রিক্স, মেসার্স এইচআরবি ব্রিকস, মেসার্স এইচকেবি ব্রিকস, মেসার্স এমএসবি ব্রিক্স, মেসার্স এমডিপি ব্রিক্স এবং মেসার্স আরআরবি ব্রিকস। ২০২৪ সালের শেষের দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত এক অভিযানে উপজেলার ৯টি অবৈধ ইটভাটাকে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের ‘দায়সারা’ অভিযানের পর ভাটাগুলো আবার চালু হয়ে যায়। জনস্বার্থে এগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন স্বীকার করেছেন যে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কারো নেই। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানিয়েছেন, লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন