প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিচারের নামে অবিচার ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দেশে অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে, এই মন্তব্য তুলে ধরেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন নিহত রামিসার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি এ কথা বলেন।
পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে জামায়াত আমির বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সেখানে উপস্থিত হন।
এ সময় শফিকুর রহমান আরও বলেন, শিশু রামিসা হত্যার বিচারে সরকারের প্রতিশ্রুতি শতভাগ বাস্তবায়ন হবে বলেই আশা করে জামায়াত।
তিনি বলেন, সরকারের আন্তরিকতা থাকলে দ্রুতই বিচার সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
এই ঘটনার মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
গত ২৪ মে তারিখে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসংক্রান্ত শুনানি নিয়ে অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
ওইদিন দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।
একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখা পাওয়া যায়। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়া পাওয়া না যাওয়ায় রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
এখন খুঁজে পাওয়া যায় আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানা গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় গত ২০ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
ঘটনার সময় সে জানায় যে, ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
জবানবন্দিতে সোহেল বলেছেন, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার সময় রামিসা ঘর থেকে বের হলেই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বাথরুমে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
এই সময় সে মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকে।
এই সুযোগে সোহেল তার গলা কেটে হত্যা করে এবং মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে।
দুটি হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে।
এছাড়া, ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়।
ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিল। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে।
মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন