প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরাজগঞ্জ শহরের দরগা রোডে নির্মিত এলিট টাওয়ারের অনুমোদনবহির্ভূত অষ্টম তলা অপসারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদ্যোগ কার্যত থমকে আছে। একাধিকবার নোটিশ ও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভা। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযানের দিনক্ষণ নির্ধারণ করেও শেষ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এর মধ্যে ভবনমালিকের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানানোয় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ভবনটির মালিক জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সাবেক স্টেনোটাইপিস্ট খাদেমুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষক হেদায়েত উল্লাহ গং। ভবনটির অনুমোদনবহির্ভূত অংশ অপসারণের জন্য ২০২৪ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন পৌর মেয়র নির্দেশনা দেন। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল পৌর প্রশাসকের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়। একই বছরের ১১ আগস্ট পুনরায় অপসারণের নির্দেশনা জারি করা হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পৌর প্রশাসক শাহাদাত হোসেইন স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত নোটিশে ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ভবনটির অনুমোদনবহির্ভূত অষ্টম তলা অপসারণে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযান নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর থানার কাছে পুলিশ ফোর্সও চাওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত দিনে অভিযান পরিচালনা না করেই ফিরে আসে পৌরসভার অভিযানকারী দল। ওই সময় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, পৌর প্রশাসকসহ তাঁরা ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভবনমালিক স্ট্রোক করেছেন জানিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় চাওয়া হয়।
তবে ওই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ভবনটির অনুমোদনবহির্ভূত অংশ অপসারণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার প্রশাসক স্যারের সঙ্গে আমরা বসব। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ভবনটির মালিকানা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সাবেক স্টেনোটাইপিস্ট খাদেমুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষক হেদায়েত উল্লাহ নিজেদের সরকারি কর্মস্থলের পরিচয় এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। তাঁদের এমন প্রভাববলয় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মধ্যেই ভবনটির অবৈধ অংশ অপসারণে পৌরসভার একাধিক নির্দেশনা কার্যকর না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে ভবনমালিক খাদেমুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভবনটির বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনাধীন।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক শাহাদাত হোসেইন বলেন, ভবনমালিকরা হাইকোর্টে রিট করেছেন। আমরা সেটির জবাব দেব। বর্তমানে আদালতে আছে। জবাব দেওয়ার পরই ব্যবস্থা নিতে পারব বলে আশা করছি।
একাধিকবার নোটিশ ও চূড়ান্ত নির্দেশনার পরও এলিট টাওয়ারের অনুমোদনবহির্ভূত অংশ অপসারণ না হওয়ায় পৌরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত অবৈধ অংশ অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন