প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব আইভিএফ (ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাত ৯টায় শহরের গ্র্যান্ড তাজ পার্টি সেন্টারে দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি। বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসক ডা. হাদি হোসেন, ডা. সিনথিয়া তাসমিন, ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী, ডা. প্রদীপ লাল বণিক, ডা. বিশ্বজিৎ ভৌমিক, ডা. নিশিত নন্দি মজুমদার, ডা. ইশতিয়াক আহমেদসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের চিফ কনসালটেন্ট ডা. নিবাস চন্দ্র পাল। তিনি আইভিএফ চিকিৎসার ইতিহাস, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, বাংলাদেশে এর অগ্রগতি এবং শ্রীমঙ্গলে এ সেবার সফলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই ইংল্যান্ডে বিশ্বে প্রথম টেস্টটিউব শিশু লুইস জয় ব্রাউন জন্মগ্রহণের মধ্য দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ড. রবার্ট এডওয়ার্ডস এবং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্যাট্রিক স্টেপটো-এর গবেষণা ও প্রচেষ্টায় আইভিএফ প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। প্রথমদিকে এ প্রযুক্তি নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও বর্তমানে এটি এক বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত, নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ডা. নিবাস চন্দ্র পাল বলেন, বর্তমানে বিশ্বে এক কোটিরও বেশি শিশু আইভিএফ প্রযুক্তির মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে। আধুনিক অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি (অজঞ)-এর অগ্রগতির ফলে সন্তান ধারণে সমস্যায় ভোগা অসংখ্য দম্পতির মুখে আজ হাসি ফুটেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশেও আইভিএফ চিকিৎসার ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও দক্ষতা নিয়ে সফলতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে চলেছেন। বর্তমানে, বিদেশে না গিয়েও দেশে উন্নতমানের আইভিএফ চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব।
ডা.নিবাস পাল জানান, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়র অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টার বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রথম আধুনিক ল্যাবসমৃদ্ধ আইভিএফ (টেস্টটিউব বেবি) সেন্টার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সফলভাবে ১৮৯টি টেস্টটিউব শিশুর জন্ম হয়েছে। এতে বহু নিঃসন্তান দম্পতির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পেয়েছে।
তিনি বলেন, বন্ধ্যাত্ব কোনো অভিশাপ নয় এবং এটি শুধু নারীর সমস্যা বলেও মনে করার সুযোগ নেই। পুরুষ ও নারী উভয়ের কারণেই সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। তাই লজ্জা বা কুসংস্কার দূরে রেখে সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে আইভিএফ প্রযুক্তি নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুল ধারণা দূর করা এবং সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানটির শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র এবং নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা বিশ্ব আইভিএফ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজকদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন