প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসীর লাশ ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে।
শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তাদের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে যায়। লাশ দেশে পৌঁছানোর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা ভিড় করে। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহতরা হলেন বজলুর রশীদ (৩৮) ও মনোহর আলী (৩৬)। বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে এবং মনোহর আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ২৫ মে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু ঘটে। শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তাদের লাশ ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং এরপর সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
স্বজনদের মতে, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাক গিয়েছিলেন। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। তাদের কারও বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না।
জানা গেছে, কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়, যা ঘটনার স্থলে দুইজনকে শেষ করে দেয়। তাদের লাশ ২৬ দিন পর দেশে পৌঁছায়।
শনিবার বিকাল সাড়ে চারটায় বজলুর রশীদ এবং সাড়ে পাঁচটায় মনোহর আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ গ্রহণ করেন।
নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেছেন, আমার স্বামী ঋণ করে চার বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে তার ভালো অবস্থান ছিল না। এভাবে লাশ আসবে, এটি কখনো ভাবিনি। এখনো অনেক ঋণ রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কীভাবে বাঁচব—জানি না।
বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। গত ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। আজ সে কফিনে ফিরে এসেছে। গোটা পরিবার এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেছেন, ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর লাশ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং প্রশাসন প্রয়োজনী সহযোগিতায় পাশে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন