প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে 'হাদি হত্যার' ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এ বিষয়ে তিনি সব কিছু জানেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, মুখ খুললে দেশ বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। এজন্য তিনি দেশের স্বার্থে মুখ খুলছেন না।
মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের ধরনা কর্মসূচিতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হাজির হন।
সেখানে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলেন, বাংলাদেশে একটি বড় খুনিকে বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেফতার করেছিল, যা নিয়ে অনেক রেভুলেশন হয়েছিল। ওই খুনি মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসেন। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে, এটি তাদের ক্রেডিট। তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে তাকে ফোন করে বলছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এতদিন আমি বলিনি, মুখ খুলিনি। আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে বলছি। আমি এখনও নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। কারণ বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না। আমি দেশকে ভালোবাসি। এজন্য দেশের স্বার্থে বলব না।’
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা প্রশ্ন ছুড়ছেন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বের হয়েছিল?
মমতা বলেন, আজ সরকার পরিবর্তন হলেও মনে রাখবেন, আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটি কথা ভাণ্ডার, তথ্য ভাণ্ডার, সত্য ভাণ্ডার। আমি তো সম্পদের ভয়ে কর্মীদের জলে ভাসিয়ে দিয়ে দল ছেড়ে চলে যাব না।
‘আমাদের দলের একটা নীতি আছে, আদর্শ আছে, দর্শন আছে। আজ আমার দুঃখ একটাই, যাদের জন্য সারাজীবন করেছি, তারা আজকে গাদ্দারের সঙ্গে লাইন করছে। তোমার এলাকায় যখন বাড়ি ভাঙছে, আমি নিজে ফোন করে তোমাদের যেতে বলি, কিন্তু তোমরা চাচ্ছ না। আমি বলেছিলাম, যখন মসজিদের মাইক কেড়ে নেয়া হচ্ছিল, তোমরা একটা কেস করো, কিন্তু করনি। যারা আজ গাদ্দারি করছে তৃণমূলটাকে ভাঙার জন্য, আমি বলি— ঈশ্বর আল্লাহ তেরে নাম, সপ্ত সুমতি দে ভগবান’, যোগ করেন মমতা।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার সময় আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত ৮ মার্চ হাদি হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। চার দিন রিমান্ড শেষে তাদের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন