প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আমিনুল ইসলাম (৩৪) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ। একই কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার পপি (২৩) এবং ১০ মাস বয়সী শিশুকন্যা ফাতিহাকে গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত অবস্থায়।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের ‘রিলাক্স জোন’ আবাসিক হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আমিনুল রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি মীরসরাইয়ের ছাগলখাইয়া গ্রামের আবুল বশরের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, গত রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে আমিনুল নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে পরিবারসহ ১০৪ নম্বর কক্ষে ওঠেন। রাত ১০টার দিকে তিনি হোটেল থেকে বের হয়ে রাতের খাবার কিনে আনেন। পরদিন, সোমবার সকালে দরজায় সাড়া না পেয়ে ম্যাসাজের লোক পাঠালে অনেক চেষ্টার পর ভেতর থেকে আহত স্ত্রী তাহমিনা দরজা খুলে দেন। এসময় ফ্যানের সাথে আমিনুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং খাটের নিচে রক্তাক্ত স্ত্রী ও সন্তানকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আমিনুল ও তাহমিনার বিয়ে হয়। তবে পারিবারিক কলহের কারণে গত এক বছর ধরে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে তাহমিনার বাপের বাড়িতে থাকতেন। রোববার সকালে সন্তানের জন্মনিবন্ধন করাতে ইউপি কার্যালয়ে গেলে আমিনুল জোরপূর্বক স্ত্রী-সন্তানকে নিজের কাছে রেখে হোটেলে হন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ড. মেহের নিগার জানিয়েছেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাহমিনাকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মুখে আঘাতের চিহ্ন, নাকে রক্ত এবং গলায় কিছু পেঁচানোর দাগ ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন