প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমেরিকার সামরিক বাহিনীকে পর্তুগালের 'লাজেস বিমানঘাঁটি' (Lajes Air Base) ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল দেশের মধ্য-ডানপন্থী সরকার। এই সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা যাচাইয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে পর্তুগালের প্রসিকিউটররা। শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল 'লেফট ব্লক'-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। বিরোধী দলটির অভিযোগ, সামরিক অভিযানের জন্য মার্কিন ট্রানজিট ফ্লাইটকে দেশের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
১৯৫১ সালে পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আওতায়, শান্তিকালীন সময়ে পর্তুগালের সম্মতি ছাড়াই মার্কিন বাহিনী অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত আযোরেস দ্বীপপুঞ্জের লাজেস ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে। তবে যুদ্ধ বা শত্রুভাবাপন্ন পরিস্থিতিতে ঘাঁটিটি ব্যবহারের জন্য পর্তুগাল সরকারের পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন।
স্পেন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিলেও, পর্তুগাল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানগুলোকে বেশ কয়েকটি ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। এই বিষয়টি পর্তুগালের ঘরোয়া রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রাঙ্গেল সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, "পর্তুগাল আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াশিংটন আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে, তাদের যেকোনো কার্যক্রম সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হবে এবং কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।"
তবে দেশটির প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, পর্তুগালের আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত তথ্য বা অভিযোগ জমা পড়লে প্রসিকিউটরদের জন্য ঘটনাটি তদন্ত করা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন