প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন যে, বেশি প্রত্যাশা করতে গেলে আবারও বিপদ আসতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, অন্য কেউ যেন মানুষের অতিরিক্ত প্রত্যাশার সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক কর্মী ও দলগুলোর সতর্ক থাকতে হবে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ফেনী আমার ফেনী’ আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি কথাগুলি তুলে ধরেন।
এ্যানি বলেছেন, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য এবং কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে, ঠিক তেমনি মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার সমন্বয়ও জরুরি। নির্বাচনের পর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে এবং ৫ আগস্টের পর রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের ধারণাও পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সেই ধারণা ধরে রাখার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের উপর।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারে আসার ছয় মাসের মধ্যে সবার জন্য অনেক কিছু করে ফেলা হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পালন করতে হয়। তবে ১৭ বছর ধরে মামলা, হামলা, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম ও খুনের যে পরিস্থিতি ছিল, অন্তত সেখান থেকে মানুষ কিছুটা রেহাই পেয়েছেন।
এ্যানি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি কথায় উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর একটি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক ভালো ছিল। এখন দেশের মানুষের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। মানুষেরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতির সাথে যুক্ত, এবং সেই রাজনীতি তাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি।
স্মরণসভায় এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং বোরহান উদ্দিন ফয়সাল ও আমির হোসেন জনির সঞ্চালনায় সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলম এবং মরহুম মোশারফ হোসেনের জ্যেষ্ঠ কন্যা ফারাহ আঞ্জুম বারী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন।
মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, ফেনীর মানুষের প্রতি কিছু দেওয়ার এবং তাদের পাশে থাকার তাগিদ থেকেই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজনীতিতে এসে তার কোনো সুবিধা নেওয়ার চিন্তা ছিল না; বরং তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন।
স্মরণসভায় রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছাপানো ছিলেন। বক্তারা মোশারফ হোসেনের রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক ও গণমাধ্যমে অবদানের পাশাপাশি তার সততা, বিনয়, মানবিকতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন। শেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করার কথা জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন