প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টতে ক্ষমতায় এলে প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে দেশটির কট্টর ডানপন্থী এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)।
শনিবার ম্যাগডেবার্গে অনুষ্ঠিত দলীয় সম্মেলনে এএফডি জানায়, যদি তারা সরকার গঠন করতে পারে, তবে প্রথম দিন থেকেই রাজ্যে অবস্থানরত সব অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর স্যাক্সনি-আনহাল্টে রাজ্য সরকার নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, এএফডি মূলধারার রক্ষণশীল দলগুলোর তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
দলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী উলরিখ জিগমুন্ড বলেন, ক্ষমতায় আসার প্রথম মুহূর্ত থেকেই অনিয়মিত অভিবাসীদের বহিষ্কার শুরু করা হবে। তাদের আটক রেখে আইনে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের কমিউনিটি সেবামূলক কাজে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে। অন্যথায় তাদের ভাতা কমিয়ে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সম্মেলনে জিগমুন্ড আরও বলেন, তার দল ঐতিহ্যগত পরিবারব্যবস্থাকে সমর্থন করবে, যা একজন পুরুষ, একজন নারী এবং তাদের সন্তানের সমন্বয়ে গঠিত।
স্কুলে ‘এলজিবিটিকিউ+’ রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করার এবং এর পরিবর্তে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জার্মানির জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এছাড়া জিগমুন্ড দাবি করেন, জার্মানির স্কুলের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে নাৎসি আমলের অপরাধবোধের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই তিনি দীর্ঘমেয়াদে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
গ্রামীণ এলাকা থেকে তরুণদের অন্যত্র চলে যাওয়া ঠেকাতে শিক্ষানবিশদের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে ১ হাজার ৫০০ ইউরো (১৭০০ ডলার) ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে এএফডি।
এদিকে এএফডি বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার পূর্বাঞ্চলীয় শহর এরফুর্টে দলটির বার্ষিক সম্মেলনের বিরুদ্ধে হাজারো বিক্ষোভকারী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
দলটির বার্ষিক সম্মেলনে বর্তমান দুই নেতা অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালাকে আবারও নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দলটি ক্ষমতার আরও কাছে পৌঁছানোর সংকেত দিয়েছে।
এ সময় হাজারো বিক্ষোভকারী ওই সম্মেলনের বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এএফডির দুই দিনব্যাপী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও বামপন্থী দলগুলোর ডাকে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
জার্মানির বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দাঙ্গা পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা সম্মেলনকেন্দ্রের দিকে যাওয়ার মহাসড়ক ও বিভিন্ন সড়কে বসে অবরোধ করেন। পুলিশ বলছে, এরফুর্ট ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে।
প্রসঙ্গত, অভিবাসনবিরোধী, রাশিয়াপন্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থক হিসেবে পরিচিত এএফডি নির্বাচনে জয়ী হলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো কট্টর ডানপন্থী দল জার্মানির একটি অঙ্গরাজ্যে সরকার গঠন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন