প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা এবং রেকর্ডসমূহের ঝড় দিয়ে। শেষ দিনের ম্যাচগুলোতে ফুটবল বিশ্বের একাধিক তারকা নিজেদের নাম লিখিয়েছেন নতুন নতুন ইতিহাসে। লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, হ্যারি কেইন, লুকা মডরিচ এবং রিয়াদ মাহরেজের ব্যক্তিগত কীর্তির পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে ডিআর কঙ্গো। একই দিনে নাটকীয়ভাবে নকআউট পর্বেও নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া।
মেসির রেকর্ডের পর রেকর্ড
জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন লিওনেল মেসি। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন, যা সত্যিই অসাধারণ।
এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, গ্রুপ পর্বে ছয় গোল করে ১৯৯৪ সালের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ছয় গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি। বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে তার গোলসংখ্যা এখন ছয়টি, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
একই ম্যাচে লাউতারো মার্তিনেজ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান নবম ম্যাচে। আর লিয়ান্দ্রো পারেদেস ১৫৪টি সফল পাস দিয়ে গত ছয় দশকে আর্জেন্টিনার হয়ে এক ম্যাচে সর্বাধিক সফল পাসের নতুন রেকর্ড গড়েন।
কেইনের সামনে আর কেউ নেই
পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে গোল করে হ্যারি কেইন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠেন। তার গোলসংখ্যা এখন ১১, যা ভেঙে দিয়েছে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের পুরোনো রেকর্ড।
এদিকে জুড বেলিংহ্যাম একই ম্যাচে একটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করে গত ৬০ বছরে ইংল্যান্ডের চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে এমন কীর্তি গড়েন, যা প্রশংসনীয়।
রোনালদোর নতুন মাইলফলক
কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপে ২৫তম উপস্থিতি। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৯টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখনো লিওনেল মেসির দখলেই রয়েছে।
চল্লিশেও অনন্য মডরিচ
ঘানার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে অ্যাসিস্ট করে ৪০ বছর ২৯১ দিন বয়সে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি বয়সী অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ড গড়েছেন লুকা মডরিচ। একই সঙ্গে তিনি এবং ইভান পেরিসিচ প্রথম ক্রোয়াট ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ২০টি করে ম্যাচ শুরুর একাদশে নামার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
ডিআর কঙ্গোর ঐতিহাসিক অর্জন
উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ডিআর কঙ্গো। দলের হয়ে ইয়োয়ানে উইসা হ্যাটট্রিক করে এক বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন গোল করা চতুর্থ আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান, যা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
মাহরেজের রেকর্ড, অস্ট্রিয়ার নাটকীয় ড্র
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলের ড্রয়ে জোড়া গোল করে ৩৫ বছর ১২৬ দিন বয়সে বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন রিয়াদ মাহরেজ। অন্যদিকে যোগ করা সময়ে সাসা কালাইজদজিচের গোল অস্ট্রিয়াকে নকআউটে তুলেছে। সেই ম্যাচে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে যোগ করা সময়ে এক দল এগিয়ে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষ আবার সমতা ফিরিয়েছে।
গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন নকআউট লড়াইয়ের অপেক্ষা। তবে শেষ দিনের রেকর্ডের বৃষ্টি ও তারকাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ২৬-এর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বকে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন