প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ শুধুমাত্র ফুটবলপ্রেমীদের উল্লাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি স্পেনের ভূগর্ভকে আক্ষরিক অর্থে কাঁপিয়ে দিয়েছে। ফাইনালে স্পেনের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর দেশজুড়ে ভক্তদের বাঁধভাঙা উল্লাসের কারণে উৎপন্ন কম্পনকে ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্র বা সিসমোমিটারে ধরা পড়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, রবিবারের ফাইনালে ফেরান তোরেসের গোলের পর যখন পুরো দেশ আনন্দের সাগরে ভাসছিল, তখনই ভূগর্ভে এই অস্বাভাবিক কম্পন বা তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল।
জিওসায়েন্সেস বার্সেলোনা সেন্টারের গবেষকরা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ইনস্টিটিউট (আইজিএন) এবং কাতালান জিওলজিক্যাল অ্যান্ড কার্টোগ্রাফিক ইনস্টিটিউটের (আইসিজিসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের দেওয়া এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আলজেসিরাস, বার্সেলোনা, ক্যাডিজ এবং গ্রানাডার মতো প্রধান শহরগুলোতে খেলা চলাকালীন ও খেলা শেষ হওয়ার পর ভূগর্ভে কিছু অস্বাভাবিক সংকেত বা কম্পন রেকর্ড হয়েছে।
পুরো ম্যাচজুড়ে সিসমোমিটারের সেন্সরগুলো মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট সময়ে তীব্র কম্পন শনাক্ত করেছে। প্রথম সংকেত ছিল ফেরান তোরেসের গোলের পর, দ্বিতীয় সংকেত ছিল অফসাইডের কারণে ভিএআর-এ বাতিল হওয়া একটি গোলের সময় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনটি রেকর্ড করা হয়েছে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরে, যখন স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভূকম্পন কোনো প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্টি হয়নি। বরং, এটি মানুষের কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট 'ইনডিউসড সিসমিকিটি' বা কৃত্রিম ভূমিকম্পের একটি একেবারে অস্বাভাবিক উদাহরণ। হাজার হাজার মানুষ যখন কোনো বড় ফ্যান জোনে বা স্টেডিয়ামে একত্রে লাফিয়ে এবং চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করেন, তখন তাদের সম্মিলিত পায়ের ধাক্কায় মাটিতে এই ধরনের কম্পন তৈরি হতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপ জয়ের উত্তেজনা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। এর আগে ২০২৪ সালের ইউরো কাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্পেনের জয়ের পরেও মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা শহরের সেন্সরগুলোতে একই ধরনের ভূগর্ভস্থ কম্পন রেকর্ড হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন