প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনের সমর্থনে সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেছিলেন। যদিও তার অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে সংগঠনটির নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন।
এবং সোনম ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের দাবিতে এখনও অনড় রয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সংগঠনটির অবস্থান-বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
টানা ২৬ দিন অনশনের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন ভঙ্গ করেন। তিনি ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসেছিলেন।
তবে, তাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ হওয়ার আগেই কেন তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন।
এমনকি অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ হয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে সমালোচকদের জবাব দিতে শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম।
তিনি বলেন, 'টানা ২৬ দিন অনশনের পরও কি আমাকে আমার আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে? গভীর দুঃখ, বিস্ময়, ক্ষোভ ও শোক নিয়েই এই ভিডিও করছি।' তিনি জানান, দীর্ঘ অনশন ও শারীরিক ধকলের কারণে তার শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোনমের দাবি, তার পেশি ক্ষয়ে গেছে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্কেও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, তার ওজনও ১১ কেজি কমেছে। এ অবস্থায় তার অনশনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
সোনম ওয়াংচুক জানান, শুক্রবার সকালে অনেক মানুষ তাকে ফোন করে এবং সরাসরি দেখা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট দেখিয়েছেন। হাসপাতালেই তিনি জানতে পারেন, তার অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সোনমের অনশন ভাঙার বিষয়ে সিজেপির মুখপাত্র রাঙ্কা বলেন, তারা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। কারণ, দীর্ঘ অনশনের কারণে সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে অনশন শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সোনমের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে অনেকের প্রশ্ন, কেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙা হলো? কেন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকলেন না? কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে। এসব সমালোচনার জবাব দিতে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম।
তিনি বলেন, 'যদি সত্যিই সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করতে হতো, তাহলে কি আমি ২৬ দিন অনশনে থাকতাম? অন্যরা কীভাবে সমঝোতা করে, সেটাও তো সবাই দেখেছেন। আমি চাইলে আরামদায়ক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই তা করতে পারতাম। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় অনাহারে বসে থাকার প্রয়োজন হতো না।' এ সময় কঠিন পরিস্থিতিতে যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন সোনম ওয়াংচুক।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন